রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে ৩৪ জন কর্মকর্তা জড়িত–গণপূর্ত মন্ত্রী

13

যুগবার্তা ডেস্কঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনায় ৩৪ জন কর্মকর্তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কিছু ঠিকাদারী কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে ৪ জন কর্মকর্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আমরা লিখেছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ০১ জন কর্মকর্তা অবসরে এবং ০৩ জন কর্মকর্তা পিআরএলে গেছেন। তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আমরা লিখেছি। যারা কর্মরত আছেন তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গুরুতর অভিযোগের কারণে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর ১০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় মামলা রুজু হবার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ০১ জন কর্মকর্তার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি সম্পৃক্ততা পায়নি বিধায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে”।

আজ দুপুরে সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। সরকারের অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। যেখানেই অনিয়ম-দুর্নীতি, তার বিরুদ্ধেই আমাদের কঠোর অবস্থান। আমরা চাই দেশে উন্নয়নের গতিকে ধ্বংস করার ভয়াবহ ব্যাধি দুর্নীতি যেনো না থাকে। এ লক্ষ্যে আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে”।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, “রূপপুরের গ্রীন সিটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ে ও ভবনে ওঠানোর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির তদন্ত পরিসরের ব্যপ্তি করে দিয়ে বলেছি অন্যায়ভাবে কোনো নির্দোষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কেউ যেনো অভিযুক্ত না হয়, পাশাপাশি বলেছি যত বড় ক্ষমতাসম্পন্ন বা দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি হোন না কেনো তার দায়ভার পেলে তাকে যেনো অনুকম্পা দেখানো না হয়”।

শ ম রেজাউল করিম ব্রিফিয়ে আরো যোগ করেন, “তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় অতিরিক্ত ৩৬,৪০,০৯,০০০/- (ছত্রিশ কোটি চল্লিশ লক্ষ নয় হাজার) টাকা নিয়েছে। সেই অর্থ উদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি। ঠিকাদারদের অন্যান্য কাজে পাওনা বিল থেকে এ টাকা কেটে রাখা হবে। কোনভাবেই রাষ্ট্রের একটি টাকাও অন্যায়ভাবে যারা নিয়েছে তারা আত্মসাৎ করতে পারবে না। এছাড়া ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা দুর্নীতিতে জড়ায় তাদের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা উচিত নয়। এটি সকল ঠিকারদারদের জন্য বার্তা, অন্যায় করলে ব্যবসা করা যাবে না এবং সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থাকা যাবে না”।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করা সহ অন্যান্য পদ্ধতিতে আমরা অগ্রসর হবো বলেও জানান মন্ত্রী।