রামপালসহ সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বন্ধ করুন, বাংলাদেশকে বাঁচান

2

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের ভয়ংকর আক্রমণের মধ্যে সুন্দরবনই প্রধান ভরসা বাংলাদেশসহ উপকূলের মানুষদের। এই সুন্দরবনের জন্য বারবার বাঁচে বহু লক্ষ মানুষের জীবন ও সম্পদ। অসংখ্য শিশু, নারী, পুরুষ বেঁচে থাকার সুযোগ পান। ‘উন্নয়নের’ নামে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার আর তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা এই সুন্দরবনকেই নাই করে দিতে উদ্যত। রামপালসহ সুন্দরবনবিনাশী শত প্রকল্প এই প্রাকৃতিক অসাধারণ রক্ষাবর্মকে ঘিরে ফেলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি ˆতরি করেছে।
গত ৯ নভেম্বর বাংলাদেশের উপক’লীয় অঞ্চল আবারও প্রত্যক্ষ করলো সুন্দরবনের শক্তি। যারা দেখেও দেখে না, বুঝেও বুঝতে চায় না, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’- সুন্দরবন কী, কেন তার কোনো বিকল্প নেই! ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল পার হয়ে যাবার পর আবহাওয়া অধিদপ্তর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের তিন দিক জুড়েই ছিলো সুন্দরবন। সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নিজস্ব শক্তিও কমে আসে। এ কারণে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘক্ষণ সময় লেগেছে। ফলে পূর্ণ শক্তি নিয়ে বুলবুল বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত করতে পারেনি।’ এরকম বুক পেতে দেওয়া সুন্দরবনকে আমরা বহুবার দেখেছি। সর্বশেষ এর আগে ‘২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা একইভাবে সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।’
কিন্তু সবাই বুঝলেও একমাত্র সরকার এই প্রবল সত্য বুঝতে অনিচ্ছুক। সরকারের কাছে বিশ^ ঐতিহ্য আমাদের রক্ষক সুন্দরবন রক্ষার চাইতে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা দেয়া, ভারত সরকারের কথা শোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। তাই গত ১০ বছরে বহুরকম তথ্যপ্রমাণ হাজির করা সত্ত্বেও সরকার বুঝতে অরাজী যে, সুন্দরবন বিনাশ মানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে বাংলাদেশ অরক্ষিত হয়ে যাওয়া।
সরকারের উদ্দেশ্যে আমরা আবারও বলি, এখনও সময় আছে। রামপালসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিল করে এই প্রাকৃতিক রক্ষাবর্মকে আরও শক্তিশালী হতে দিন। সুন্দরবন ধ্বংস করে বাংলাদেশকে অরক্ষিত করবেন না।