রাজনীতি পছন্দ করছে না পুলিশ!

যুগবার্তা ডেস্কঃ পুলিশ জনগণের বন্ধু, দুষ্টের দমন করাই তার কাজ। এ নীতিবাক্যে কারো কোনো আপত্তি না থাকলেও বিভিন্ন সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সময় পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বড় কর্তাদের অনেকে চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর বিভিন্ন সভা সেমিনারে বলতে শোনা গেছে রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার না করলে এ বাহিনীর সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। অবশ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্যে পেশাগত দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে নিজে ব্যবহার কিংবা বক্তব্য রাখার জন্যে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে সমালোচিত হয়েছেন।
এতকিছুর পর পুলিশের ভাবমূর্তি যাতে ফিরে আসে এজন্যে এ বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই এখন আর রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে চাচ্ছেন না। প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে চরমভাবে ক্ষুব্ধ রয়েছেন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা। নিয়োগ, বদলি, পদায়ন এসব প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়। এতে অনেক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাও বিশেষ কোনো রাজনৈতিক নেতার আস্থাভাজন না হওয়ায় হয়রানির শিকার হন। ফলে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না পুলিশ।
প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দূর করতে হবে দীর্ঘদিনের আবাসন ও যানবাহন সংকট। গঠন করতে হবে স্বতন্ত্র পুলিশ ডিভিশন। বাড়াতে হবে ঝুঁকিভাতার পরিধি। এরকম ১৮টি দাবি তুলে ধরা হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহে। ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে দাবির খসড়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের নির্ধারিত বৈঠকে এটিসহ মোট ১৮ দফা দাবি তুলে ধরা হবে। পুলিশের প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবিটি হচ্ছে অন্যতম।
এদিকে, সোমবার পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি শহিদুল হক বলেন- কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসহ আদালতে আপীল করতে পারেন। বিগত ৫ বছরে মোট ৭০৯ পুলিশ সদস্য বিভাগীয় শাস্তির আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপীল করেছেন। এদের মধ্যে ২৯৩ জন আপীল করে অব্যাহতি পেয়েছেন, যা ৪০ শতাংশের অধিক। এসব ঘটনাতেও রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেক পুলিশ সদস্য।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অনেক সময় দেখা যায় কোনো আসামিকে গ্রেফতারের পর তাকে ছেড়ে দিতে রাজনৈতিক নেতারা চাপ দিতে থাকেন। এছাড়াও বিশেষ কোন ব্যক্তিকে প্রতিহিংসা বশত গ্রেফতার করতেও পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। যা খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, পুুলিশের সার্বিক কাজের গতি বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা ‘পুলিশ ডিভিশন’ করতে গত কয়েক বছর থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে পুলিশ। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামীতে নিজেদের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ নিজেরাই করতে পারবে পুলিশ। এর ফলে বদলি, পদোন্নতি, বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কাজ দ্রুত করা সম্ভব হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের আলাদা ডিভিশন আছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজের গতি বেড়েছে। কিন্তু আলাদা ডিভিশন না থাকায় দাফতরিক নানা জটিলতায় পড়ে পুলিশের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়ক্ষেপণ হয়।মারুফ আহমেদ ,আমাদের সময়.কম