রাজনীতির শুদ্ধতম পুরুষ

55

সাইফুল ইসলাম শিশিরঃ জনাব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিদিন কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর ‘স্বাস্থ্য আপডেট’ প্রকাশ করে থাকেন। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তা পড়ি। রাজনীতির এক শুদ্ধতম পুরুষ কমরেড হায়দায় আকবর খান রনো। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

‘৬২ শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান’র অন্যতম রূপকার হায়দার আকবর খান রনো। শ্রমিদের সংগঠিত করা, শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি টঙ্গি অঞ্চলে কাজ শুরু করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য তৎকালীন স্বৈরশাসক ৬২ বার তাঁর অবস্থানে হানাদিয়েও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাধারণ ভাবে চলাফেরা– সাধারণের সাথে মিশে থাকার তাঁর সেই সহজাত প্রবৃত্তি তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছে বারবার।

স্বাধীনতার পূর্বাপর টঙ্গি ছিল এদেশের শ্রমিক আন্দোলনের সুতিকাগার। শ্রমিকদের চাঁদার পয়সায় তখন “সাপ্তাহিক নয়াযুগ” পত্রিকা প্রকাশিত হতো। যা ছিল মূলত শ্রমিক আন্দোলনের মুখপত্র।

টঙ্গির শ্রমিকদের প্রকাশ্য নেতাছিলেন কাজী জাফর আহাম্মেদ। তখন তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তেজগাঁ, টঙ্গি, পোস্তাগোলা, নারায়ণগঞ্জ, মাধবদি প্রভৃতি শ্রমিক এলাকায় ছুটে বেড়ানোর জন্য শ্রমিকরা নিজেরা চাঁদা তুলে তাঁকে গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। শ্রমিকদের প্রকৃত নেতা ও সংগঠক ছিলেন হায়দার আকবর খান রনো। লাউগাছ লকলক করে বেড়ে ওঠে। মনে হয় লাউগাছ বেঁচে আছে তার আঁকড়াসী দ্বারা। প্রকৃত পক্ষে লাউগাছ বেঁচে থাকে তার শিকড় দ্বারা।

তারমানের জানাশোনা তাত্ত্বিক নেতা এদেশে কমই আছেন। রাজনীতিতে ত্যাগ- তিতিক্ষাও তার পাহাড় পরিমাণ। পড়াশোনার মান সাকা হাফং পর্বতশৃঙ্গকেও ছাড়িয়ে যায়। তাঁর লেখা বইসমূহ উচ্চমার্গীয়- স্বচ্ছ টলটলে। সুখপাঠ্য যেন বহমান নদির মত- স্রোতস্বিনী।

‘৮০ দশকের গোড়ার কথা। আমি তখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছি। রনো ভাই সাংগঠনিক কাজে আত্রাই এসেছেন। সময় করে আমি তাঁকে ‘গান্ধী আশ্রম- খাদি কেন্দ্র’ দেখাতে নিয়ে যাই। পুরানো বাংলা ঘরের মধ্যে কাঠের চরকা, সে আমলের ভাঙ্গা তাঁত, হাতলওয়ালা দু’টি চেয়ার, একটি জলচৌকি, গান্ধীজী চরকায় সুতা কাটছেন এমন দুএকটা ছবি তিনি ঘুরে ঘুরে দেখলেন।

আতাফল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে রনো ভাই বললেন – উলঙ্গ গান্ধী- গান্ধীবাদ বলে আমরা যতই হেলাফেলা করিনা কেন, এই লোকটি ছিলেন তৎকালীন সর্বভারতীয় মানুষের প্রধান নেতা, সাধারণের প্রিয় ‘বাপুজি’।

রনোভাই আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন। আপনি এদেশের রাজনীতিতে এক ‘শুদ্ধতম পুরুষ।’-লেখকঃ একজন সমাজকর্মী।
১২ জুলাই, ২০২০ খ্রি.
লেক সার্কাস, ঢাকা।