রাইডাররা বেপরোয়া

রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চালকরা বেপরোয়া। শুধু রাস্তায় চলার ক্ষেত্রে নয়, তাদের আচার আচরণও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই তারা দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে রাস্তায় রাইডারদের সঙ্গে যাত্রীর বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। উবার-পাঠাওসহ সবগুলো প্রতিষ্ঠানের রাইডারদের একই অবস্থা। এখন নতুন করে ধরা পড়ল ভুয়া ঠিকানা ও কাগজপত্রেও নিবন্ধন পাওয়া যায়। সর্বশেষ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্যকে চাপা দেওয়া কাভার্ডভ্যান ও তাকে বহনকরা উবারের মোটরসাইকেলের গতি ছিল বেপরোয়া। দুই চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মোবারক এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘রাস্তার যানজটের কারণে রাইড শেয়ারিংয়ের মটরসাইকেলেই তিনি বেশি যাতায়াত করেন। সর্বশেষ শনিবার পাঠাও-এর বাইক সেবা নেন। সেখানে চালক শুরু থেকেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। তার ব্যবহারের মধ্যে কোনো নমনীয়তা নেই। আমি সব ধরনের অ্যাপই ব্যবহার করি। এর মধ্যে পাঠাও চালকরা বেশি ঔদ্ধত্যপূর্ণ।’ মোহাম্মদপুরের আরেক বাসিন্দা জাহিদুর রহমানও বলছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, পাঠাও চালকরা অনেক রুঢ়। তাদের আসলে প্রশিক্ষণ দরকার। আমাদের তো অনেক নারী এদের বাইকে উঠছে। এখন এই কোম্পানিগুলো যদি ভুয়া কাগজপত্রে রেজিস্ট্রেশন দেয় তাহলে নারীদের নিরাপত্তা কোথায়।’

উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই চালকদের অনুমতি দিচ্ছে। এসব চালক দক্ষ না, মাদকসেবী কেউ কেউ। নারীদের বাইকে তুলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হঠাৎ হঠাৎ বাইকে ব্রেক ধরে। এগুলো মনিটরিং করে না রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। তাদের আরোহীদের জন্য নিম্নমানের হেলমেট দেওয়া হয়। এসব দ্রুত ঠিক করতে হবে।’

ডিসি বিপ্লব বলেন, লাবণ্যকে বহনকারী উবারে রেজিস্ট্রেশনের সময় মোটরসাইকেল চালক সুমন হোসেন ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের ঠিকানাও ভুয়া। এটা কিভাবে সম্ভব? কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া সুমনের ভুল ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশন করেছে উবার কর্তৃপক্ষ। যার ফলে লাবণ্যর মৃত্যুর ঘটনায় সুমনকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়েছে। উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত উবারের সিনিয়র ম্যানেজার আরমানুল রহমান সহযোগিতা না করার ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, রাইড শেয়ারিংয়ের একটা নীতিমালা হচ্ছে। আমরা পুলিশ, সরকার, বিআরটিএর সঙ্গে কাজ করছি। ভালো করার চেষ্টা চলছে।-ইত্তেফাক