যৌন সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে গণমাধ্যম

যুগবার্তা ডেস্কঃ যৌন সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে গণমাধ্যম সাহায্য করতে পারে। সমাজ বৈচিত্র্যপূর্ণ; খোলা মনে এসব বৈচিত্র্য মেনে নিতে হবে। আজ রোববার ডেইলি স্টার ভবনে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমে হিজড়াদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ১০ জনকে ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড দেয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিজেল বলেন, কোনো একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা কতটা স্বচ্ছন্দে থাকতে পারছে তার ওপর সেই সমাজ বা রাষ্ট্রের অগ্রগতি নির্ভর করে। তিনি বলেন, সমাজ বৈচিত্র্যপূর্ণ। খোলা মন নিয়ে এ বৈচিত্র্যকে মেনে নিতে হবে।
জোহান ফ্রিজেল বলেন, একটি সমাজে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী, যৌন সংখ্যালঘুসহ অনেক ধরনের সংখ্যালঘু বসবাস করেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে এদের প্রত্যেকের অধিকার সমুন্নত রাখার কথা বলা হয়েছে। এটা খুব আনন্দের বিষয় যে, বাংলাদেশ ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে একটি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কি না, তা বুঝতে সে দেশে সংখ্যালঘুরা কেমন আছে তা বিবেচনা করা দরকার। সমাজ পরিবর্তনে গণমাধ্যমকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে হিজড়াদের পাশাপাশি সমকামীদের অধিকার নিয়েও প্রতিবেদন তৈরির অনুরোধ জানান তিনি।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সমাজে সমকামিতা ছিল, আছে। সুতরাং তাদেরও অধিকার রক্ষিত হচ্ছে কি না সে দিকে নজর দেওয়া দরকার।’
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো কঠিন। তবে গণমাধ্যম এই দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলানোয় কাজ করতে পারে। হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেওয়া ও নিজের পায়ে দাঁড়াতে তাদের ঋণ দেওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। ফেলোশিপের আওতায় ভালো প্রতিবেদন তৈরির জন্য মতিউর রহমান সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হিজড়াদের বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে অবিচারের শিকার হওয়া, সব বাধা ঠেলে তাঁদের মধ্য থেকে কারও কারও যে দাঁড়ানো এবং হিজড়া পরিচয়ে তাঁরা ভোট দিতে চান-ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রতিবেদন করেছেন। এগুলো বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয় এবং টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) কর্মরত তানিশা ইয়াসমিন বক্তব্য দেন। পরিবারে ছেলে হিসেবে বেড়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে তানিশা বলেন, জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি আসলে নারী। তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। কারণ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলোতে পরিবারের দেওয়া পুরুষ নামটি ছিল। তিনি তাঁর পুরুষ নাম এফিডেবিট করে বদলে নেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে নাম পরিবর্তনের আবেদন জানান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে জেন্ডার নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করান।
তানিশা বলেন, হিজড়ারা সংগ্রাম করতে ভয় পায় না। তাদের জন্য শুধু সমাজের দায়িত্বশীল অংশের একটি সমর্থন দরকার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারপারসন আনিসুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অংশে নাচ পরিবেশন করেন অনন্যা বণিক। প্রথম আলো