যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যা

4

রাজশাহী অফিসঃ যৌতুকের টাকা না এনে দেয়ার কারণে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে থানায় হত্যা মামলা হলেও আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে না। আতংকে বাদীর পরিবার।

নিহত গৃহবধূর নাম মোসলেমা খাতুন (৩০)। তার স্বামীর নাম নজরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী নগরীর রাণীনগর এলাকার মৃত হানিফ মৃধার ছেলে। আর নিহত মোসলেমার বাবার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাজিপুর বান্দুড়িয়া গ্রামে। গত ২২ মে মোসলেমার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সেদিনই নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন মোসলেমার বাবা মো. মুরশালিন (৬০)। মামলায় নজরুল ইসলাম (৪০) এবং তার মা সৈসয়দা ওরফে সাহিদাকে (৫০) আসামি করা হয়। তবে এ পর্যন্ত কোনো আসামিই গ্রেপ্তার হননি। পুলিশ বলছে, তারা পলাতক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকবছর আগে নজরুলের সঙ্গে মোসলেমার পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই একটি বাস কেনার জন্য যৌতুক দাবি করে আসছিলেন নজরুল। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেয়ার কারণে ছয় মাস আগে মোসলেমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তখন তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা নজরুলকে বুঝিয়ে তার বাড়িতে মোসলেমাকে পাঠান। কিন্তু তারপরেও থামেনি যৌতুকের জন্য নির্যাতন। দুই লাখ টাকার জন্য প্রতিনিয়ত মোসলেমাকে মারধর করতেন তিনি।

এজাহারে মামলার বাদী উল্লেখ করেন, ২১ মে তিনি খবর পান তার মেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু নজরুল ইসলাম বিষয়টি তাকে অবহিত করেননি। মুরশালিন নিজে তার জামাতা নজরুলকে ফোন করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, গরু শিং দিয়ে মোসলেমাকে আঘাত করেছে। কিন্তু লকডাউন চলার জন্য সেদিন মুরশালিন গোদাগাড়ী থেকে আসতে পারেননি। পর দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, তার মেয়ে মারা গেছে। আসামিরা তার মেয়েকে হত্যা করেছে বলে তার কাছে মনে হয়েছে। তাই মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘরের দরজা ভেঙে মোসলেমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা গা-ঢাকা দেয়ায় এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করে বলা যাবে।