যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করাটা আওয়ামী লীগের অর্জন। য্ধুাপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পাতায় জয় লেখেন, “নিজামী এবং বাকি যুদ্ধাপরাধীদেরকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বিচারের আওতায় আনেন। এটি পুরো আওয়ামী লীগের এক অসাধারণ অর্জন।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর প্রধান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইংরেজি ও বাংলায় লেখা ফেসবুক স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় নিজামীসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের মামলা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটরদের ধন্যবাদ জানান।
“যুদ্ধাপরাধীদেরকে অভিযুক্ত করে দোষী সাব্যস্ত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।”
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে পাবনার বাউশগাড়ি, ডেমরা ও রূপসী গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ; পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৫২ জনকে হত্যা এবং পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন নিজামী।
“আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে ৩০ লক্ষ শহীদের খুনের বিচার করতে ৪৫ বছর লেগে গেছে,” বলেন জয়।
চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে ধিক্কার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীরতনয় বলেন, “দেশ থেকে পলাতক নিজামী এবং গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিয়াউর রহমান তাদেরকে নাগরিকত্ব দেন। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া নিজামীকে তার সরকারের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তাদেরকে ধিক্কার জানাই।”
১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসীন জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীকে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে আবার বৈধভাবে দেশে রাজনীতি শুরু হয় দলটির।
পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়া নিজামীকে ২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। প্রথমে দুই বছর (২০০১-২০০৩) কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে সরকারের পরের তিন বছর (২০০৩-২০০৬) ছিলেন শিল্পমন্ত্রী।