মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের আরেক অংশ চলাচলের জন্য খুলল

যুগবার্তা ডেস্কঃ মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের আরেক অংশ চলাচলের জন্য খুললরাজধানীর নিউ ইস্কাটন থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নির্মাণাধীন মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মগবাজার-মৌচাক অংশ খুলে দেওয়া হয়।

এ সময় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটা জায়গায় ফ্লাইওভার করলেই যে এলাকা যানজটমুক্ত হবে, এটা কিন্তু নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় এই ফ্লাইওভার কিছু যানজট সৃষ্টিও করতে পারে। সেটা নিরসন হবে, মাস্টারপ্ল্যানে যা আছে, সবটা পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার পর আমরা যানজটমুক্ত হতে পারব।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ ফ্লাইওভারের এ অংশ চালুর ফলে মগবাজারের যানজট এখনই শেষ হয়ে যাবে এমন নয় বিষয়টি। যানজট নিরসেনর জন্য পুরো ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শেষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ২০১৭ সালে মধ্যে পুরো ফ্লাইওভারের বাকি কাজ শেষ হবে।’

তিনটি অংশে এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ এ ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি অংশ যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১১ সালের ৮ মার্চ মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়।

ফ্লাইওভারের নতুন উদ্বোধন হওয়া অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। এর আগে ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে তেজগাঁও সাত রাস্তা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের একাংশের উদ্বোধন করেন।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু করা এই ফ্লাইওভার দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তবে ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর এখন ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। মেয়াদ বাড়ার সমান্তরালে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ২১৯ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে সরকার।

সব মিলিয়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, রমনা (হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা), বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও শান্তিনগর মোড়ে লুপ বা র‌্যাম্প রাখা হয়েছে।

ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড উড়ালসড়কটির নির্মাণ কাজ করছে।