মোবাইল মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম

ফজলুল বারীঃ ” ‌উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে গোপনে আঘাত হানতে সক্ষম চারটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং দু‌টি বোমারু বিমান কোরিয়া উপদ্বীপের ওপর মহড়া দিয়েছে। মূলত কিম জন উনকে চাপে রাখতেই এই কৌশল নিয়েছে আমেরিকা। এবার একধাপ এগিয়ে খেলল জাপানও। তাঁরা উত্তর কোরিয়ার মিসাইল ব্যবহারের পথে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র স্থাপন করেছে। যাকে বলা হচ্ছে মোবাইল মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। উত্তর প্রান্তের দ্বীপ হোক্কাইডোতে এই ক্ষেপনাস্ত্র কেন্দ্র হয়েছে বলে খবর। যা নিয়ে রীতিমত চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইৎসুনোরি ওনাদরা জানান, ‘‌সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে এই ব্যবস্থা করেছে। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন পড়তে পারে বলেই এই অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।’‌ সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া মিসাইল পরীক্ষা করেছিল জাপানের ওপর দিয়ে। তাতে বেশ আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল জাপানের। তাই পাল্টা হিসাবে একাধিক ক্ষেপনাস্ত্র উত্তর প্রান্তের দ্বীপ হোক্কাইডো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। জাপান নিজেদের রাজধানীকে রক্ষা করতে আরও চারটি ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি রেখেছে বলে খবর। জাপানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দু’‌ধাপের ক্ষেপনাস্ত্র রয়েছে। একটি সমুদ্রে ব্যবহার করা যাবে। আর একটি আকাশ পথে ব্যবহার করা যাবে।
জাপানের সংবিধানে রয়েছে, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরণের ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। আর মিসাইল লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে নামানোর দায়িত্বে রয়েছে জাপানের সেনাবাহিনীর হাতে। তবে এই বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌২০১৫ সালে নতুন নিরাপত্তা আইন পাশ হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমেরিকার গুয়ামে আক্রমণ করতে হলে জাপানের আকাশ পথ ব্যবহার করে করতে হবে উত্তর কোরিয়াকে। আর সেক্ষেত্রে জাপানই পাল্টা মিসাইল ছুঁড়ে উত্তর কোরিয়ার মিসাইলকে খতম করতে পারবে।’‌ ইতিমধ্যেই গুয়ামে মিসাইল আক্রমণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে উত্তর কোরিয়াকে।
এদিকে জাপান এবং আমেরিকার সাঁড়াশি রণকৌশলে উত্তর কোরিয়া কতটা চাপে পড়ল তা সময়ই বলবে। তবে জাপানকে উস্কানি দিয়ে আমেরিকা এই কাজ করাচ্ছে বলে মনে করছে কিম জন উনের দেশ। সেক্ষেত্রে ফের আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার তপ্ত সম্পর্কের দ্বৈরথ বাড়বে বলে সন্দিহান সবপক্ষই।”