মোংলার মিঠেখালিতে চিংড়ি ঘের থেকে তীব্র গতিতে গ্যাসের উদগীরণ চলছে রান্নাবান্না

মোংলা থেকে মো. নূর আলমঃ মোংলার মিঠেখালির একটি চিংড়ি ঘের থেকে সপ্তাহখানেক ধরে তীব্র গতিতে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উদগীরণ হচ্ছে। ঘেরটির বিভিন্ন জায়গা থেকে উর্ধমুখী গ্যাসের এ উদগিরণ দেখতে প্রতিদিন সেখানে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে আনন্দ, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা। রয়েছে দুর্ঘটনার ভীতিও। এদিকে ঘের মালিক সেই গ্যাস দিয়ে কয়েকদিন ধরে রান্নাবান্নার কাজেও ব্যবহার করছেন।
২ জুলাই শনিবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাখালীর মধ্যপাড়ার নূরানী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার শেখের (৩৫) পৌনে তিন বিঘার চিংড়ি ঘেরের মাটির নিচ থেকে এ প্রাকৃতিক গ্যাসের উদগীরণ ঘটছে। গত সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের উদগীরণ ক্রমেই বাড়ছে। ঘেরটিসহ ঐ এলাকার বিাভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। যদিও এ গ্যাস উদগীরণ হয়ে আসছে প্রায় ৬ বছর ধরে। তখন মুলত ঝামেলা এড়াতে বাড়ীর প্রকৃত মালিক হাজী আলতাফ শেখ বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু বছর দুই আগে মারা যান তিনি। এরপর পূর্বের ধারাবাহিকতায় গত এক সপ্তাহ ধরে সেই গ্যাসের উদগীরণ বেড়ে গেলে তার সেজো ছেলে দেলোয়ার শেখ (৩৫) তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন। উদগীরণস্থল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই গ্যাস চুলার সাথে সংযোগ ঘটিয়ে গত তিনদিন ধরে রান্নাবান্নার কাজ করছেন দেলোয়ারের পরিবার। দেলোয়ার বলেন ঘেরের জমিতে ৬ বছর আগে মাটি উত্তোলনের জন্য মিনি ড্রেজারের পাইপ বসাতে গিয়ে দেখি সেখান থেকে হঠাৎ প্রচুর গ্যাস বের হতে শুরু করে। সেই সময়ে গ্যাসের প্রচন্ড চাপ ছিলো। পাইপের মাটি, পানি ও বালি তীব্র গতি বেগে ও বিকট শব্দে গুলির মত বের হতে থাকে। ভয়ে আমরা তখন মাটির ৬০ ফুট গভীরে ঢুকানো পাইপ তুলে ফেলি। তারপর থেকে এভাবে গ্যাস উঠতে থাকে। কিন্তু সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এরপর এ গ্যাস কাজে লাগানোর জন্য বাজারের মোবাইল দোকানদার বাদশা মোড়লকে দিয়ে ড্রাম ও পাইপ দিয়ে গ্যাসের লাইন চুলার সাথে সংযোগ ঘটিয়ে রান্নার কাজ করছি।
দেলোয়ারের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন মিম বলেন, তিনদিন ধরে এই গ্যাস দিয়ে চুলায় রান্নাবান্না করছি। সিলিন্ডার গ্যাসের যেমন প্রেসার এ গ্যাসের চুলায়ও একই রকম প্রেসার। এ গ্যাস দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে ভাত, মাছ, ডাল ও সবজি রান্না করছি। বহু লোকজন প্রতিদিন দেখতে আসছে এ গ্যাস দিয়ে তাদেরকে চা খাওয়াচ্ছি। মিঠাখালী বাজারের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান তান্ত্রিক টেলিকমের মালিক মোঃ বাদশা মোড়ল (৩৩) বলেন, দেলোয়ার এসে আমাকে তার ঘের থেকে গ্যাস উঠার কথা জানিয়ে কিভাবে এর ব্যবহার করা যায় তার ব্যবস্থার জন্য বলেন। পরে আমি গত সোমবার তার ঘেরের মধ্যে প্লাস্টিকের ৫০ লিটারের একটি ড্রাম বসিয়ে ও ১ ইঞ্চির পাইপ লাগিয়ে চুলায় সংযোগ দিই। এর আগে পাইপের মুখে দিয়াশলাই দিয়ে দেখি আগুন জ্বলে। সেই সংযোগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে তার ঘরে পুরোদমে রান্নার কাজ চলছে। তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, বিদ্যৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মোংলার অন্যতম নেতা নাজমুল হক বলেন বলেন, মাটির নীচের প্রাাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ। জনগণের গ্যাস সম্পদ উত্তোলন-সংরক্ষণ ও বিতরণ করে দেশের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। সরকারেরর কাছে দাবী বাপেক্স’র মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এলাকার মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার অবসান ঘটানো হোক। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি বাপেক্স’কে জানানো হবে। তারা কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা এসে গবেষণা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।