মোংলার পশুর নদীতে ঝড়ে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মোঃ নূর আলমঃ মোংলার পশুর নদীতে ঝড়ে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ আজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও টহলদল সুন্দরবনের হারবাড়িয়া থেকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত তিনজনজন হলো ক্রেন ড্রাইভার মোঃ শাহ আলম (৪৫), বার্জের প্রহরী (স্কট) মোঃ জুয়েল (৪০) এবং আব্দুল লতিফ (৩৫)। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট এবং মোংলার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। নিখোঁজের দুইদিন পর মরদেহ তিনটি উদ্ধার হলো। গত ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ এম এল আকতার এবং বার্জ হারড্ডা পশুর নদীর হারবাড়িয়ায় ডুবে তিনজন নিখোঁজ হন।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মোঃ মাসুদ জানান গত মঙ্গলবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ডুবে যায় এম এল আকতার লঞ্চ এবং বার্জ এমভি হারড্ডা। ঐ সময় তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। নিঁখোজের দুইদিন পর নিখোঁজ তিনজন ক্রেন ড্রাইভার মোঃ শাহ আলম, এবং প্রহরী জুয়েলকে আজ সকালে এবং বার্জের কর্মচারি আব্দুল লতিফকে বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এবং টহল দল পশুর নদীর হারবাড়িয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযান অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য উদ্ধার হওয়া মোঃ শাহ আলমের বাড়ী মোংলার উত্তর মালগাজী গ্রামে, জুয়েলের বাড়ী খুলনার লবনচরার বউ বাজার এলাকার জিন্নাহ পাড়া এবং আব্দুল লতিফের বাড়ী বাগেরহাটের কাশিমপুর। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মরদেহ তিনটি মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বাহার বলেন মরদেহ তিনটির সুরতহাল রিপোর্ট শেষে বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রহরী ( স্কট ) জুয়েলের মরদেহ তার পিতা সিরাজুল ইসলাম গ্রহণ করেছেন অন্যদিকে ক্রেন ড্রাইভার মোঃ শাহ আলম’র লাশ তার ছেলে সুমন এবং আব্দুল লতিফের লাশ তার স্বজনরা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় মোংলা থানায় অপমৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্য হুমায়ুন কবির জানান মোঃ শাহ আলমের লাশটি লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে বের করে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। ঘটনাস্থল সুন্দরবনের হারবাড়িয়া এলাকায় পশুর নদীতে গাছ-পালা থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শাহ আলমের মরদেহ বের করে আনা হলো। ফায়ার সার্ভিস দলের সদস্য মুজিবুর রহমান জানান প্রহরী জুয়েলের মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের টহল দল সুন্দরবনের হারবাড়িয়ার বন বিভাগের অফিস সংলগś এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পেয়েছে। ক্রেন ড্রাইভার মোঃ শাহ আলমের ছেলে সুমন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমার বাবার মরদেহ পেয়েছি। বাবাকে শেষ বারের মতো দেখতে পাচ্ছি এবং তাকে দাফন করতে পারবো।