মুলাদীতে মাদ্রাসার ছাত্রকে আগুনে পুড়ে দগ্ধ করল সুপার

বরিশাল প্রতিনিধি ॥ গোসল না করে মাদ্রাসায় আসার অপরাধে ঠান্ডা পানিতে দাঁড় করিয়ে রাখার পর চুলার জ্বলন্ত আগুনে ছেঁকা দিয়ে পুড়ে দগ্ধ করেছে মাদ্রাসার শিশু শ্রেনীর ছাত্র মাহিম হাওলাদারকে। জীবন মৃত্যুর যন্ত্রনায় মাহিম এখন শেবাচিম হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চরসেলিমপুর ফজলুল উলুম সেরাতুল কুরআন মাদ্রাসার।
রবিবার সকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ননা অনুযায়ী শিশু মাহিমের পিতা গৌরনদী উপজেলার সাকোকাঠী গ্রামের নুর আলম হাওলাদার জানান, তার ছয় বছর বয়সের পুত্র ও শিশু শ্রেনীর ছাত্র মাহিমকে সম্প্রতি সময়ে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সেখানকার ছাত্রবাসে অন্যান্য ছাত্রদের সাথে মাহিম থাকতো। ঘটনারদিন (বুধবার) গোসল না করে মাদ্রাসায় যাওয়ার অপরাধে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মো. আল-আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লাশরুমে বসে মাহিমের গলা চেঁপে ধরে। একপর্যায়ে শিশু মাহিম ক্লাশ রুমের মধ্যেই পায়খানা করে দেয়। এতে সুপার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিমকে মাদ্রাসার পুকুরে নামিয়ে গলা অবধি পানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখে। মাহিম শীতে কাঁপতে থাকলে সুপার মাহিমকে পুকুর থেকে তুলে হাত-পা ধরে মাদ্রাসার রান্নাঘরের জ্বলন্ত চুলায় আগুনের ছেঁকা দেয়। এতে মাহিমের পেটের একটি অংশ পুড়ে দগ্ধ হয়। নুর আলম আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য সুপার অন্যান্য ছাত্রদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অতিগোপনে ওই সুপার শিশু মাহিমকে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি (নুর আলম) হাসপাতালে ছুটে আসলে সুপার আল-আমিন শিশু মাহিমকে ফেলে রেখে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাহিমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য সুপার স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজসে মাহিমের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলেও মাহিমের পিতা নুর আলম হাওলাদার উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মো. আল-আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।