মুক্তি পেয়ে ‘ফিরোজায়’ খালেদা জিয়া

17

মাহাবুবুর রহমানঃ সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৮ মাস কারাভোগ শেষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন। আজ বেলা চারটা বারো মিনিট নাগাদ মুক্তি পেয়ে হাসাপাতাল থেকে সরাসরি গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় উঠেছেন তিনি। তার বয়স বিবেচনায় সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে, তিনি দেশের বাহিরে যেতে পারবেন না। বাসায় বসে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কয়েকটি শর্ত মেনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার নিজের জিম্মায় গ্রহণ করেন।

কোন ধরনের আগাম ইঙ্গিত ছাড়া গতকাল বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তার সাজা ছয় মাস স্থগিত রেখে মুক্তির সিদ্ধান্তের জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি তার গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের জানান, বয়স বিবেচনায় সদয় হয়ে সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৬ ধারায় তার সাজা ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানাযায়, করোনার পরিস্থিতিতে তার ভাই শামামী ইস্কানদার, বোন সেলিমা হোসেন ও ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে মানবিক কারনে মুক্তির অনুরোধ করেছেন। এর পরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৎপর হয় সরকার। নীতিগত সিদ্ধান্ত করা হয় মুক্তি দেওয়ার। মুলত পারবারিক সমঝোতায় তার এ মুক্তি হয়েছে।

এ ঘোষনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গনমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে। অনেক বিএনপির নেতারা ছুটে যান শাহবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) চত্বরে। খোজ খবর নিতে শুরু করেন দলের হাইকমান্ড ও পরিবারবর্গ। তবে এই মুক্তিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল স্বস্তি বলে মন্তব্য করেছেন।

গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব গুলশান চেয়ারপার্সনের কার্যালয় স্থায়ী কমিটির নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন তারেক জিয়া।

গতকাল রাত থেকেই গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসার ‘বাসভবন ফিরোজা’ প্রস্তুত করা হয়। ছাড়া পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে সরাসরি ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের গাড়িতে ওঠানো হয়। এসব নির্দেশনা অমান্য করে হাসহাতাল গেটে হাজির হন দলের নেতাকর্মীরা। কয়েকশত নেতাকর্মীদের ভীড় ঠেলে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার নিজে গাড়ী চালিয়ে ফিরোজায় নিয়ে আসেন। বেলা সোয়া পাঁচ টায় ফিরোজা বাসভবনে পৌঁছান।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পা্ঁচ জনের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। কারাভোগ করাকালীন বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসা পত্র দেখে পরবর্তী চিকিৎসার উদ্দ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও কারামুক্তিতে বাধা ছিল জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা।

সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বছরের ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি
করা হয়।মুক্তির আগ পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।