মালিকরা কথা রাখে নাই, সরকার নির্বিকার

যুগবার্তা ডেস্কঃ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে প্রায় অর্ধেক গার্মেন্ট শ্রমিক এবার ঈদে বোনাস বঞ্চিত হবে এই আশংকা করে অবিলম্বে বেসিকের সমান বোনাস ও মজুরিসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিকরা ২০ রোজার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করবেন বলে পতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারিভাবে গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটি একই কথা ঘোষণা করেছিল। মালিকরা বরাবরের মত কথা রাখে নি, সরকারও নির্বিকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটি ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা এবার ঈদে প্রতারণা ও বঞ্চনার শিকার হবে বলে আমাদের আশংকা হয়।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, শ্রমিকরা ২০ রোজার মধ্যে বেসিকের সমান বোনাস, মজুরি, ওভারটাইমসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বেসিকের সমান বোনাসের দাবি অন্যান্য বছরের মত এবারও সর্বত্র উপেক্ষিত হয়েছে। যে সকল কারখানায় ইতোমধ্যে বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দান-খয়রাতের মতো কোনরকম কিছু টাকা শ্রমিকদের ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
‘যে কারখানা যেদিন ছুটি দেবে, সেদিন শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেবে’ মালিক সমিতি-বিজিএমইএ’র সভাপতির এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিকদের ওয়াদা জগতের সবচেয়ে নড়বড়ে ব্যাপার, তারা যখন তখন ওয়াদাভঙ্গ করেন। ছুটির দিন পাওনা পরিশোধের কারণে যথাসময়ে শ্রমিকরা ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারবে না। কিন্তু তার চাইতেও অনেক বড় সংকট হলো, মালিকদের নতুন ঘোষণা শ্রমিকদের পাওনা বঞ্চিত করে ঈদের ছুটিতে পাঠানোর কৌশল বৈ আর কিছু নয়। অতীতে সবসময় এমনটাই ঘটেছে বলে নেতৃবৃন্দ বলেন। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বঞ্চিত শ্রমিকদের রোষ থেকে বাঁচতেই একেক দিন একেক কারখানা ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারা শ্রমিকদের ঠকানোর এ সকল ঘৃণ্য কৌশল থেকে মালিকপক্ষ ও সরকার কে সরে আসার আহ্বান জানান।
অবিলম্বে সকল গার্মেন্ট শ্রমিককে বেসিকের সমান বোনাস ও মজুরিসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এদিক সেদিক না করে এই সরল পথে চলাটাই হবে উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।