বার্ষিক পরীক্ষা এবছর হচ্ছে না–শিক্ষামন্ত্রী

13

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এবার কোনো বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। সব শিক্ষার্থীই পরবর্তী ক্লাসে উঠবে। মূল্যায়ন যেন কোনো চাপ সৃষ্টি না করে। এজন্য ৩০ কর্মদিবসের একটি সিলেবাস তৈরি করা হবে। সিলেবাসটি পরবর্তী ক্লাসের শিখনফল অর্জনে সহায়তা করবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী যুক্ত ছিলেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি এবং এইচএসসি ও সমানের পরীক্ষা বাতিলের পর মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক শিখনফলের গুরুত্ব বিবেচনা করে সিলেবাসটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যেন তা পরবর্তী ক্লাসের শিখনফল অর্জনে সহায়তা করে। প্রণীত সিলেবাসটি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। সিলেবাসটি ওয়েবসেইটে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উল্লিখিত সিলেবাস থেকে অ্যাসাইনমেন্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পৌঁছানো হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রতি সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন। শিক্ষার্থীরা এ অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে পরবর্তী সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে পরের সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবে। এক্ষেত্রে অনলাইনের সাহায্যে করা যাবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অ্যাসাইনমেন্ট নেবেন।

তিনি বলেন, এ মূল্যায়ন তার পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলছে না। এ মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী বর্ষে তাদের কোন কোন জায়গয়া দুর্বলতা আছে, তা পরের ক্লাসে অ্যাড্রেস করবো এবং তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারবে। সেই কাজের জন্য এ মূল্যায়ন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল গড় করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এ ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের গত কয়েক বছর ধরে প্রচেষ্টা ছিল সমন্বিত পরীক্ষা।

আমরা মনে করি এবছর আমাদের যে বাস্তবতা, তাতে এ সমন্বিত পরীক্ষাটি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আমরা যদি দেশব্যাপী সমন্বিত পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই হয়তো সেটি করা সম্ভব। কারণ, প্রতি জেলায় জেলায় যদি পরীক্ষা হয় এবং সারাদেশে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আছেন তারাই কিন্তু নানানভাবে ইনভিজিলেটর, পরীক্ষা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে মান নিশ্চিত করতে পারেন। আমাদের ধারণা এটি করা সম্ভব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু গত বছরের শেষে এবং এবছরের শুরতে সমন্বিত পরীক্ষা নিয়ে কথা হয়েছিল, সেখানে কয়েকটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ সমন্বিতভাবে হয়, এবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হয়েছে।

একইভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত পরীক্ষা হতে পারে। আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কী পদ্ধতিতে হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো। এটি নিয়েও আমাদের আলাচনা চলছে।

এরই মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ গত ১৭ অক্টোবর জানিয়েছে, তারা চলতি বছর ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে। তবে কোন পদ্ধতিতে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তার দু’দিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এবছর বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতদিন মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হতো। সেখানে ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং এসএসসি ও এইচসির জিপিএর ভিত্তিতে ৮০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হতো।

তবে এবার মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর জন্য থাকছে ২০ নম্বর, বাকি ৮০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। তার মধ্যে আবার ৩০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে।