মাদারীপুরে এখনো পানিবন্দি হয়ে রয়েছে হাজারো মানুষ

36

নাজমুল মোড়ল, মাদারীপুরঃ জেলার সদর উপজেলার পাচঁটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দু’দিনে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে সদর উপজেলার শিরখাড়া, ধুরাইল, বাহাদুরপুর, কালিকাপুরসহ ৫টি ইউনিয়নে। এসব এলাকার অনেক মানুষ এখন পানিবন্দি।
তথ্যমতে, বাহদুরপুর ইউনিয়নের, দক্ষিন বিরাঙ্গল গ্রামটির চর্তুরদিকে পানিতে থৈ থৈ করছে, বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আতঁঙ্কে রয়েছে গ্রামের মানুষ এবং সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কলাগাছের ভেলাই এখন যাতায়াতের মাধ্যম। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব কাজী বলেন, করোণা মহামারীর ফলে আমাদের অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে চলে গেছে তার উপর এই ভয়াবহ বন্যায় আমরা দিশেহারা। ফসলের ভিতর শুধু পাট রক্ষা করতে পেরেছি তাও শুকানোর যায়গা নেই বাকি ফসল বন্যায় তলিয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, মাদারীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৪৫ জন মানুষ। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৮টি। জেলায় বরাদ্দকৃত খাদ্যের পরিমাণ ৪০০ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৩০২ মেট্রিক টন। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ২৬০০টি। ত্রাণ মজুদ আছে ৯২ মেট্রিক টন। জিআর সহায়তা নগদ ১২ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের ২ লাখ এবং গো-খাদ্যের ২ লাখ টাকা জেলা প্রশাসন তহবিলে রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে, মাদারীপুর সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদী তীরের গ্রামগুলোর শত শত ঘর বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ওই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধুই পানি আর পানি। কদিন আগেও যা ছিল বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ, এখন তা রূপ নিয়েছে হাওরে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়।