এম আর ফারজানা: মনিকা লেনন ( ছবিতে বাম থেকে দ্বিতীয়) ২০১৬ সাল থেকেই স্কটল্যান্ডের এই এমপি নারীদের পিরিয়ডের সময় যাতে স্বাস্থ্যসম্মত প্যাড পায় তার জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। পার্লামেন্টে বিলটি উপস্থাপন করেছিলেন এই মনিকা।
নিউজে দেখলাম, স্কটিশ পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় ‘পিরিয়ড প্রোডাক্টস- ফ্রি প্রভিশন’-এর বিলটি। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নারীদের স্যানিটারি প্যাড বিনামূল্যে দিতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড।
স্কুল , কলেজ থেকে শুরু করে সাধারণ থেকে অসাধারণ কেউ বাদ যাবে না। এতে করে নারীরা কি যে সুবিধা পাবে তার আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে অর্থের বিষয়টা ও জড়িত। অনেকের সাধ্য থাকেনা সবসময় প্যাড কিনার। এখন ফ্রি পাবে। এরজন্য স্কটল্যান্ড দেশে ও সাধুবাদ পাবার যোগ্য এমন একটি কাজ করার জন্য।
আমাদের দেশে এই বিষয়টা নিয়ে অনেকে লজ্জায় কথা বলতে চায় না। অথচ এটা একটা স্বাভাবিক ব্যপার। এই পিরিয়ডের সময় দেশে স্বাস্থ্যসম্মত প্যাড ব্যবহার না করার কারনেই অনেক নারী জরায়ুর ক্যান্সারে কিংবা বিভিন্ন রোগ সংক্রমনের শিকার হয়। আর যারা খুব দরিদ্র তারাতো ভাতই জোটে না, প্যাড বহুদূর। বর্তমানে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ কি এমন উদাহরণ সৃস্টি করতে পারে না ? আচ্ছা , আমাদের সংসদে অনেক নারী সাংসদ আছে তারা কি নারীদের ব্যপারে কোন জোরালো ভূমিকা রেখেছে ? শুধু প্যাড না সেটা যে কোন বিসয় হতে পারে। সংসদে তাদের কাজ জনগণের জন্য কথা বলা , তাইতো । তো তারা কি ভূমিকা পালন করছে ??
আসলে আমাদের সমাজে অনেক কিছুর প্রচলন নেই , তাই বলে প্রচলন হবে না তা নয়। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, সময় বদলেছে। আমরা আগে যোগাযোগ করতাম চিঠির মাধ্যমে সেখান থেকে এখন মিনিটেই যোগাযোগ করতে পারি সারা বিশ্বে। কত পরিবর্তন। তাহলে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে কেন ? বাংলাদেশেও স্কটল্যান্ডের মত উদাহরণ তৈরী হোক এই দাবী জানাই।-লেখক: একজন সাংবাদিক ও কলামিস্ট, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র ।

*মতামত বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখাই লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা মতামত।