মজুদ আইন কার্যকরে কঠোর হচ্ছে সরকার

যুগবার্তা ডেস্কঃ মজুদ আইন কার্যকর করতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। লাইসেন্স ছাড়া যারা চাল ও গমের ব্যবসা করছেন তাঁদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স নিতে হবে।

লাইসেন্স নেওয়ার পর প্রতি ১৫ দিনে গুদামে মজুদের অবস্থা জানাতে হবে জেলা প্রশাসনকে। এই সময়ের মধ্যে লাইসেন্স না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (ডিসি ফুড) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। মজুদবিরোধী আইন ‘কন্ট্রোল অব কমোডিটিজ অ্যাক্ট’ ১৯৫৬ সালের হলেও ২০১১ সালে আইনটি সর্বশেষ সংশোধন করা হয়। এ আইনে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী এক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ করতে পারবেন না। চাল বা ধান পাইকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০০ টন সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য মজুদ করা যাবে। খুচরা পর্যায়ে ১৫ টন ধান বা চাল ১৫ দিন রাখা যাবে। ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পণ্যের শতভাগ ৩০ দিন মজুদ করতে পারবেন। তাঁরা ৫০ ভাগ পণ্য ৪০ দিন এবং ২৫ ভাগ পণ্য ৫০ দিন মজুদ করতে পারবেন।

আইনে মালিক পর্যায়ে অটোমেটিক, মেজর ও হাসকিং চালকলের ধরন অনুযায়ী মজুদ করার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
একজন ডিসি-ফুড কালের কণ্ঠকে জানান, ২০১১ সালে আইনটি সংশোধন হলেও কখনোই তা কার্যকর করার চেষ্টা করেনি সরকার। এ আইন কার্যকরে তিনটি প্রধান বাধা রয়েছে। এগুলো দূর না করেই আইনটি কার্যকর করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, আইনটি নিখুঁতভাবে কার্যকর করতে হলে খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জনবল দরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলায় খাদ্য আদালত দরকার। এসব ঠিক না করে আইনটি কার্যকরের ঘোষণা কেবল কাগজপত্রেই থাকবে।

বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যাঁরা তেল, চিনি, আটা, লবণের ব্যবসা করেন, তাঁরাও এখন চালের ব্যবসা করছেন। তাঁরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স নিলেও অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেননি। আমাদের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সতর্ক ছিলেন না। ’

ওএমএসে ৭৫ শতাংশ আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে—দাবি খাদ্যমন্ত্রীর : খোলাবাজারে চাল বিক্রির কর্মসূচি—ওএমএসে দেওয়া আতপ চালের ৭৫ শতাংশই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওএমএসে সারা দেশে দিনে দুই হাজার ১০৫ টন আতপ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে বিক্রি হয় দেড় হাজার টন। ঢাকায় প্রতিদিন ১২০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার ৯০ টন চাল বিক্রি হয়েছে। কাজেই আতপের কারণে ওএমএসের চাল বিক্রি হচ্ছে না—এ সংবাদটা সঠিক না।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘হাওরে অকাল বন্যা, সারা দেশে দুর্যোগ, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো সংগ্রহ করতে পারিনি। ক্রমান্বয়ে মজুদ একেবারে কমে গিয়েছিল। টেন্ডারে ও জিটুজির আওতায় বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। মজুদ এখন সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। দিন দিন মজুদ বাড়বে। এ মজুদ থেকেই সরকারি বরাদ্দ এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণের চাল দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে বর্তমানে প্রতি মাসে এক লাখ ২৫ হাজার টন চাল ব্যবহার হচ্ছে।

চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করে সরকার। আগে ১৫ টাকা করে ওএমএসে চাল বিক্রি করা হলেও গত মাসে এই কর্মসূচি চালুর দিনই দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়।

ওএমএসের মাধ্যমে আগে সিদ্ধ চাল বিক্রি করা হলেও এখন ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা আতপ চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু অনেকে অল্প দামেও এই চাল কিনছেন না বলে ওএমএসের ডিলাররা সরকারকে জানিয়েছেন। বিভিন্ন ওএমএস স্পট ঘুরেও এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বৈঠকে খাদ্যসচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।-কালেরকন্ঠ