মংলাসহ ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল’র উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

মংলা থেকে মোঃ নূর আলম শেখঃ মংলাসহ ১০টি অথনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিড্ওি কনফারেন্সে’র মাধ্যমে রোববার সকালে উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন ’প্রত্যেকটি শিল্প এলাকায় জলাধার থাকতে হবে, পরিবেশবান্ধব হতে হবে, সবুজ বৃক্ষরাশি থাকতে হবে এবং একটি বর্জ্য শোধনাগার থাকতে হবে’। মংলা নদী ও পশুর নদীর তীরে ২০৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ’মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ এর উন্নয়ন কাজের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনকালে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৩ ( মংলা-রামপাল ) এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে মংলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মেম্বর অপারেশন মোঃ আলতাপ হোসেন, বেজার প্রকল্প পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ নিজাম উদ্দিন, শিকদার গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট বি এম কামাল হোসেন, ওজোপডিকোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শফিক উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হ্ওালাদার, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মুহাম্মদ আলী প্রিন্স, অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম সরোয়ার, মংলা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ লুৎফর রহমান প্রমূখ। এছাড়া মংলা বন্দর ব্যবহারকারী, বিনিয়োগকারীগন ও রাজনৈতিকবৃন্দ।
বঙ্গপোসাগরের নিকটে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা বন্দর এবং মংলা ইপিজেডের পাশেই ’মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার পশ্চিম পাশে পশুর নদী, পূর্ব পাশে মংলা নদী এবং উত্তর পাশে রামপাল উপজেলা অবস্থিত।
২৮ ফেব্র“য়ারি রোববার সকালে ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু আšতজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মংলা সহ ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ভিড্ওি কনফারেন্সে’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি প্র¯তর স্থাপন করেন। উল্যেখ্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মান কাজ। ইতিমধ্যে ৪০% নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। বাকী কাজ জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বর্তমানে এখানে ৩৮ কোটি টাকা ব্যায়ে এ্যাডমিনিস্ট্রিশন বিল্ডিং, বাউন্ডারি ওয়াল, এ্যাপ্রোচ রোড, ব্রীজ, বিদ্যুতের ৩৩/১১ কেভি রিসিভিং সাব ষ্টেশন নির্মানের কাজ চলছে। মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারি-কর্মকর্তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে বেজা কর্তৃপক্ষ মনে করে। প্রথম বারের মতো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্মানধীন এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকবে প্ওায়ার প্যাক ইকোনমিক জোন লিঃ। প্ওায়ার প্যাক আগামী ৫০ বছর এই অর্থনৈতিক জোনের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করবে বলে জানা গেছে।
মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল খুলনা বিভাগীয় শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার, রামপালের ফয়লায় নির্মানধীন খানজাহান আলী বিমান বন্দর থেকে ১৫ কিলোমিটার যশোর বিমান বন্দর থেকে ১০৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা শহর থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। অবশ্য পদ্মাসেতু নির্মানের কাজ সমাপ্ত হলে ঢাকার দূরত্ব আরো অনেক কমে যাবে।
২০১৮ সালের মধ্যে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের পূর্ণাংগ ভাবে নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হল্ওে ২০১৬ সাল থেকেই প্লট বরাদ্দের কাজ শুরু হবে। পোশাক শিল্প, পাট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিপ ইয়ার্ড নির্মান ইত্যাদি শিল্পকে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।