ভোলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ জোয়ার, নিম্মাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশস্কা

কামরুজ্জামান শাহীন,ভোলা॥ পূর্ণিমার প্রভাবে ভোলায় টানা ছয়দিন ধরে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বরিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলের দিকে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভোলা জানায়, এটি এ মৌসুমের সর্বোচ্চ জোয়ার। এর আগে এ মৌসুমে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ছিল।
পাউবো ভোলা আরও জানায়, ২০২০ সালের পর টানা দু’বছর পর মেঘনার পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর পূর্ণিমার জোর প্রভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ গ্রামের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।
পানিতে রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়িসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পড়েছে মানুষজন। জেলার নিম্নাঞ্চলের বাঁধের বাইরের রাজাপুর, ধনিয়া। দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর, মেদুয়া, নেয়ামতপুর, মদনপুর,। চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর পাতিলা, চর নিজাম, মুজিবনগর ও মনপুরা উপজেলার কাজির চরসহ ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে নিম্মাঞ্চলের শত শত একর জমির ফসল ও পুকুর ও মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কুষকরা।
জোয়ারের চাপে রাজাপুর ইউনিয়নের পাঁচটি পয়েন্ট দিয়ে রাস্তা এবং ইলিশা ইউনিয়নের আটটি পয়েন্ট দিয়ে বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রবল জোয়ারে দালাল বাজারসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন চরম দুর্ভোগের সময় স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধি কাউকে তারা পাশে পাননি।
মনপুরার কাজিরচরের বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া জানান, জোয়ারের পানিতে সমস্ত ফসলের মাঠ ডুবে গেছে। অন্তত ২০টি পুকুরের কয়েক লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। তার নিজেরও তিনটি পুকুরের প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। বহু ঘরের ভিটে পানিতে ধুয়ে গেছে।
চর নিজামের আলম ফরাজী জানিয়েছন, গত বছরের চেয়ে এ মৌসুমে বেশি পানি উঠেছে। তাই তাদের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
ঢালচরের ব্যবসায়ী হারুন বলেন, ঢালচরের অন্তত ৫ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে । পানি উঠে আবার নেমে গেলেও লবণাক্ততার সৃষ্টি হওয়ায় জমির উর্বরতা কমে গেছে। ভবিষ্যতে এসব এলাকায় ফসল হবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। শত শত মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার দাবি করছেন তিনি।
জেলা মৎস্য ও কৃষি বিভাগ স‚ত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ওই সমস্ত এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তাছাড়া পানির উচ্চতা ও চাপ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় এসব অঞ্চলের মানুষকে অস্বাভাবিক জোয়র থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।