ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের আমার সাথে ‘সেম পেজে’ থাকতে হবে–ভূমিমন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্কঃ ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের আমার সাথে ‘সেম পেজে’ থাকতে হবে। যারা এতে ‘কমফোর্ট ফিল’ করবেন না তাঁদের ঠিক করে ফেলা উচিৎ তাঁরা কি করবেন। যারা অন্যায় করবেন তাঁরা কেউই রেহাই পাবেন না। যারা ভালো কাজ করবেন তাঁদের জন্যে থাকবে ‘রিওয়ার্ড’। আমরা ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের সম্পদের হিসাব নিয়ে ফেলেছি। এ সম্পর্কিত পরবর্তী কার্যক্রম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সের নীতিতে রয়েছি।

আজ ভূমি সংস্কার বোর্ডের উদ্যোগে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘‘ভূমি সেবায় অধিকতর গতিশীলতা আনয়নে ই-নামজারির ভূমিকা’’ শীর্ষক এক দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ ৯৩ হাজারেরও বেশি ই-নামজারি কেস সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যেই সমগ্র দেশে ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। নামজারি সম্পন্ন করার সময়কাল ২৮ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে, এছাড়াও অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তা আরও কমিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগরসহ সমগ্র ঢাকা জেলায় শতভাগ ই-নামজারি চালু কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
“ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সম্যক ধারণা বেশ কম, যদিও সবার জীবন এবং পরিবারের সাথে বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভূমি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে আগামী ১০ই এপ্রিল, ২০১৯ তারিখে সারা দেশে ভূমি সপ্তাহ এবং ভূমি উন্নয়ন কর মেলা পালন করা হবে” – ভূমিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন।

ভূমিমন্ত্রী জানান সেবাগ্রহীতাগণের সুবিধার্থে অভিযোগ কেন্দ্র গঠনের জন্য হটলাইন, সরকারের সাথে ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন লেনদেনের জন্য ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুকরণের জন্য একটি পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, অনাবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ল্যান্ড ব্যাংক করার বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন। এগুলো মূলত পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশনের ভেতর নেওয়ার পর্যায়ক্রমিক ধাপ। প্রসঙ্গত, ‘ই-নামজারি’ অ্যাপ্লিকেশনটি মূলত ‘জমি’ নামক জাতীয় ভূমি-তথ্য ও সেবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের (www.land.gov.bd) একটি অংশ।
মন্ত্রী বলেন, “দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সু-শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। ভূমি ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন যেন টেকসই হয় সেজন্যে আমরা বদ্ধপরিকর”।
মন্ত্রী আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেবার পর আমি ৯০ দিনের প্রাথমিক কর্মসূচী গ্রহণ করি। কর্মসূচী গুলোর অনেকগুলোই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলোও শেষ হবার পথে। ৯০ দিন পর আমরা সবার সাথে আমাদের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করব”।

বিশেষ অতিথি ভূমি সচিব মোঃ মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ভূমি সেক্টরকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে চাই চাই। ইতোমধ্যে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ যে কোন জায়গা থেকে ডিজিটাল ভূমি সেবার সুবিধাগুলোর সুফল পাচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য সুলতান মাহমুদ। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন ভূমি বিশেষজ্ঞ সাবেক পরিচালক জনাব ফায়েকুজ্জামান, এবং সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ তসলীমুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের উন্মুক্ত আলোচনার মধ্যে দিয়ে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণ এবং a2i প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিগণ এবং গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ।