ভাসানীর যে বক্তৃতা ইতিহাসের পাতায় অনেকটাই অনুপস্থিত

যুগবার্তা ডেস্কঃ ‘অনেক হয়েছে আর নয়, তিক্ততা বাড়িয়ে লাভ নেই । লা-কুম দ্বিনিকুম অলইয়া দ্বিন’র মতো অর্থাৎ তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার; পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে নাও’ মজলুম জননেতা ভাসানী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের উদ্দেশে ছুড়ে দেন তার এই তীক্ষ বক্তৃতা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ৯ মার্চ, ১৯৭১ সালে পল্টনে এই ভাষণ দেন।

দুই প্রধান নেতার একই সিদ্ধান্তে চলে আসার একটি উদাহরণ স্থাপিত হয়। তবে এ উদাহরণটি ইতিহাসের পাতায় অনেকটাই অনুপস্থিতই বলা যায়। যদিও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়ে যায় ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরপরই, তবে যখন প্রধান দুই নেতা একসাথে একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঐক্যমত প্রকাশ করেন তখন স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না। ঠিক এমনটিই ঘটেছিল তখন বাঙালির জীবনে।

ভাসানী ছিলেন মূলত কৃষকদের বন্ধু, কারণ জমিদার আর মহাজনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তিনি সবসময়। আর এ কারণেই পেয়েছেন ‘মজলুম’ উপাধি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর তাই যদি তৃণমূল পর্যায়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থেকে থাকে তবে তার জন্য ভাসানীর বক্তৃতাই যথেষ্ট। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে স্বাধীনতার সপক্ষে একমত প্রকাশ করেন। ‘হে বাঙালিরা, আপনারা মুজিবের উপর বিশ্বাস রাখেন, তাকে খামোকা কেউ অবিশ্বাস করবেন না, কারণ মুজিবকে আমি ভালোভাবে চিনি’। এইদিন তিনি তার ভাষণের সাথে ১৪ দফা দাবিও পেশ করেন। তিনি এও বলেন, ‘মুজিবের নির্দেশ মতো আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কিছু না হলে আমি শেখ মুজিবের সাথে মিলে ১৯৫২ সালের মতো তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলব।’

আপামর জনসাধারণের নেতা যখন এইভাবে একাত্মতা ঘোষণা করেন, তখন ঘরে ঘরে মানুষ যুদ্ধের প্রস্তুতির সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নও দেখতে থাকে। ‘সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না’—এই কথাগুলো ছিল দূরদর্শী মাওলানা ভাসানীর।

সাত কোটি মানুষকে নিয়ে করা এই অবশ্যম্ভাবী ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছিল মাত্র নয় মাসেই। কিছু মানুষ শুধু স্বপ্ন দেখাতে নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকেন। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সেই মাপের একজন মানুষ ছিলেন।