ভালো থাকবেন প্রিয় কাজী আরিফ ভাই

ফজলুল বারীঃ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় আমাদের মতো তরুন পোলাপান সাংবাদিকের একটি বন্ধু চরিত্র ছিল ছোটন ভাই। তখন তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি করতেন। কিন্তু রাজ্যের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ তার। রাজনীতিক থেকে আমলা-আইনজীবী-সাংস্কৃতিক কর্মী কী বাদ নেই! ঢাকায় এমন অনেকের সঙ্গে প্রথম ছোটন ভাইর সঙ্গে গেছি। তিনি এমনভাবে তার সোর্সদের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যেতেন, প্রায়দিন দুপুরবেলা। আমাদের দুপুরের খাবারটিও গল্প করতে করতে সেখানেই হয়ে যেত। খাবার টেবিলেও ছোটন ভাইর ভূমিকাটি এমন থাকতো যেন নিজের বাড়ি! আবৃত্তিকার, স্থপতি কাজী আরিফের ইন্দিরা রোডের বাড়িতে সেভাবেই প্রথম যাই। কাজী আরিফ, প্রজ্ঞা লাবনী তখনো তারকা আবৃত্তি শিল্পী। তাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার টেবিলে নানা বিষয়ে কতো গল্প হতো। কী বিশাল ব্যক্তিত্ব, অথচ তার নানাকিছুতে কি সাদামাটা বাঙ্গালিয়ানা ,
এরশাদের পতনের পর আমাদের নতুন আন্দোলনটি আমাদের আম্মা
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে। এই আন্দোলনেও সবকিছুতে সামনের কাতারে যারা থাকতেন তাদের একজন কাজী আরিফ। এরপর তার সঙ্গে বহুদিন পর আবার যোগাযোগ হয় ফেসবুকে। আমার নানান পোষ্টে অনেক মজার মজার মন্তব্য লিখতেন আরিফ ভাই , এরপর আবার অনেকদিন যোগাযোগ নেই। তার জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনের নিউজটি পড়ে জানলাম তিনি নিউইয়র্কের হাসপাতালে। এরপর তিনি আর নেই :মঙ্গলবার তার লাশ আসবে দেশে। এই মুক্তিযোদ্ধা আবৃত্তি শিল্পীর লাশ দেশে আনা হচ্ছে সরকারি উদ্যোগ-খরচে। কারন সরকারটি যে শেখ হাসিনার। অনেক অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় কাজী আরিফ ভাই। বড় ভালো একজন লোক ছিলেন আপনি ।লেখকঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক