ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তি বাতিল কর–বাম জোট

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ ভারতের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তিসমূহ সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ আজ পুরানা পল্টনস্থ ˆমৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউসিএলবি’র নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার।

উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের মনিরউদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর ২০১৯ নয়া দিল্লীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে সম্পাদিত ৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যে যৌথ ঘোষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায় একতরফাভাবে ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণরƒপে উপেক্ষিত হয়েছে।
গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সাথে নানাভাবে দেনদরবার করা হলেও এ পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের দোহাই দিয়ে তিস্তার পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে আসছে। এতে প্রতি বছর বাংলাদেশের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজি হওয়ায় দেশের ১৬ কোটি মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে। এটা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশ ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষ বিশেষ করে কৃষক, ক্ষেতমজুর ও অন্যান্য পেশাজীবী মানুষ হত্যা ও নানা ধরনের হয়রানি নির্বিচারে চলছে। সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধে যৌথ ঘোষণায় কোনো উল্লেখ নেই। চুক্তিতে বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই, অথচ বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে একটি বড় বাধা বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা।
এবারের চুক্তিতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নজরদারীর জন্য ভারতকে যে ২০টি রাডার স্টেশন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব নিঃসন্দেহে হুমকির মুখে পড়বে। এটা মূলত ভারত, আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলের অংশ।
বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের সংকটের কারণে বিদেশ থেকে এলএনজি, এলপিজি গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতে এলপিজি রপ্তানির বিষয়টি অনভিপ্রেত, দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতি ও জনগণের সাথে প্রতারণার সামিল।