ভাতা সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে যাবে

9

ডেস্ক রিপোর্ট: কোনো মাধ্যম ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে যাবে মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে। জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ভাতা প্রধান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন অনেক সামাজিক কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে, টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণেই সমাজের সর্বস্তরে উন্নয়নের সুফল ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

এখন থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ ও ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে যাবে। এতে উপকারভোগীদের আর ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হবে না। তারা বাড়ির আশপাশের যেকোনো নগদ ও বিকাশ এজেন্ট থেকে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর, পিরোজপুর, লালমনিরহাট ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে উপকারভোগীসহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ৪৯ লাখ বয়স্ক পুরুষ ও নারীকে বয়স্ক ভাতা, জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ২০ লাখ ৫০ হাজার নারীকে বিধবা ভাতা, জনপ্রতি মাসিক ৭৫০ হারে ১৮ লাখ ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যায়ক্রমে সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আমরা আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এখন পর্যন্ত আমরা ১১২টি উপজেলায় শতভাগ বয়স্ক ও বিধবা ভাতার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায়ও শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু ও সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী।