বৈষম্য দূরীকরণে কোটা সংস্কারের দাবি!

অন্তু আহমেদ,জবি প্রতিনিধি : ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ স্লোগান নিয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাইকেল র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।
রোববার দুপুর ১২টায় র‍্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে জবিতে পৌঁছায়। এসময় তারা জবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তরা বলেন, কোটা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। একটি দেশের ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া কোটা ব্যবস্থায় চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমায়ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এসময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধানের ১৯(১), ২৯(১) ও ২৯(২) অনুচ্ছেদগুলোতে চাকরির ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা প্রতীয়মান হচ্ছে না। চলছে চরম বৈষম্য।
এসময় তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কোটা সংস্কারের পক্ষে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো:
১। কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে।
২। কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
৩। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিক বার ব্যবহার করা যাবে না।
৪। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
৫। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য থাকা পদে মেধায় নিয়োগ দিতে হবে।
সমাবেশে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৪ মার্চ দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও প্রত্যেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।
সমাবেশ শেষে বক্তরা কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে সমর্থন চেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন। জবির প্রোগ্রাম শেষে র‍্যালিটি সরকারি কবি নজরুল কলেজ,বদরুন্নেছা কলেজ হয়ে ঢাকা কলেজে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হয়।