বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছে বেনাপোল-খুলনা কমিউটার ট্রেন

বেনাপোল প্রতিনিধি:

পশ্চিমাঞ্চল রেলের সবচেয়ে লাভজনক রুট বেনাপোল-খুলনা। অথচ এ রুটটি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষার শিকার। এ রুটের প্রতি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা, উদাসীনতা আর অব্যবস্থাপনার নেপথ্য কারণ পশ্চিমাঞ্চল রেল তথা বাংলাদেশের রেলওয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের অসৎ উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি চক্রটি লাভজনক এ রুটটি আবারও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে। লাভজনক হলেও বেনাপোল-খুলনা রুটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচলকারী কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেয়ার চক্রান্ত চলছে।

বর্তমান আয় থেকে বেশি পাওয়া যাবে এ অজুহাতে ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা। বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন ঊর্ধ্বতন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ নেয়ার জন্য রেলের মহা-পরিচালকের দফতরে দেন-দরবার করছেন বলে রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

লাভজনক ও যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বেনাপোল-খুলনা কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেয়া হলে এ ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হবেন। এ সুযোগে চোরাচালানিরা আগের মতো তাদের আধিপত্য বিস্তার করবে। তাই লাভজনক খুলনা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনটি যাতে বেসরকারি খাতে লিজ দেয়া না হয় তার জন্য রেলমন্ত্রী ও রেলের মহা-পরিচালকের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

বেনাপোল-খুলনা কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেয়া হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে পাকশীতে কর্মরত চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন, নীতিমালা মেনেই ট্রেন বেসরকারি খাতে লিজ দেয়া হয়। আপাতত বেনাপোল-খুলনা কমিউটার ট্রেনটি লিজ দেয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। তবে শেষ ৬ মাসের আয়ের চেয়ে বেশি টাকা দিলে তার অনুকুলে লিজ দেয়া যেতে পারে।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার শাহিদুর রহমান জানান, আপনারা যেভাবে জেনেছেন আমিও ওভাবে জেনেছি। এ রুটটি বেসরকারিভাবে লিজ দেয়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।