বেগম জিয়ার শাসন আমলে ১৭ জন পাটকল শ্রমিককে হত্যা করা হয়–মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ “বেগম জিয়া তার প্রথম শাসন আমলেই বিশ্বব্যাংকের সাথে পাটখাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন শুরু করে। আর বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট শাসনে সেটা পূর্ণতা পায়। আদমজী জুট মিলসহ বিভিন্ন পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়। পাটখাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পাটকল শ্রমিকরা দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুললে ১৭ জন পাটকল শ্রমিককে হত্যা করা হয়। বর্তমান সরকার কয়েকটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করলেও পাটখাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয় নাই। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাটখাতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়মিতভাবে অস্বীকার করা হয়। ফলে সময়মত পাট কেনা যায় না। শ্রমিক-কর্মচারিদের হপ্তা-বেতন মাসের পর মাস বাকী পড়ে থাকে। পাটশিল্প, পাটচাষ আর তার সাথে যুক্ত তিনকোটি মানুষকে রক্ষা করতে শ্রমিকসহ সকল মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।”
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের প্রয়াত সভাপতি, পাট-বস্ত্র-সূতাকল সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক কমরেড হাফিজুর রহমান ভুইয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন একথা বলেন।

মেনন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি থাকার পরও কমরেড হাফিজ শ্রমিক আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং পাট শ্রমিকদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের পাশাপাশি তিনি তাদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এদেশের শ্রমিক আন্দোলন একজন প্রাজ্ঞ নেতৃত্বকে হারিয়েছে।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরƒল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি পাট-বস্ত্র-সূতাকল সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু এই উন্নয়ন কার জন্য? অবশ্যই শ্রমজীবী মানুষের জন্য নয়, ধনী লোকের স্বার্থে। শ্রমিক আন্দোলন এখন শ্রম দাসত্ব আর মালিকের স্বার্থের আবর্তে বন্দি। এই জায়গা থেকে শ্রমিক আন্দোলনকে শ্রমিক স্বার্থ আদায়ে ভূমিকা রাখতে হবে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা আমিরুল হক আমিন বলেন, জনাব হাফিজুর রহমান লোভ-লালসার উর্ধে থেকে শ্রমিক আন্দোলন করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নেতা আবুল বাশার, হাফিজুর রহমানদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু এই রাষ্ট্র তা মনে রাখে নি। শ্রমিকদের আজ মজুরির জন্য লড়তে হয়। অথচ এই রাষ্ট্র নির্মাণে শ্রমিকদের অবদান কোনো ভাবেই কম নয়।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর সম্পাদক কিশোর রায়, ফেডারেশনের সহসভাপতি হিমাংশু সাহা, নারী বিষয়ক সম্পাদক শাহানা ফেরদৌসী লাকী, করিম জুট মিল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন প্রমুখ।