বৃষ্টিতে বিঘ্ন : এখনও জমে ওঠেনি পশুর হাট

8

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বুধবার থেকে রাজধানীর ২৪টি পশু হাটে কোরবানীর পশু বেচাকেনা শুরু হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি এবং ঈদের আরও তিনদিন বাকী থাকায় এখনও জমে ওঠেনি পশুর হাট ।
তবে ছুটির দিন শুক্রবার থেকে পুরোদমে পশু বিক্রি জমে উঠবে এবং চাঁদ রাত পর্যন্ত এই কেনা- বেচা চলবে বলে আশা করছেন বিক্রেতা এবং ক্রেতারা।
রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশের, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গাসহ রাজধানীর আরও কয়েকটি পশু হাটে সরেজমিনে গিয়ে বিক্রেতা- ক্রেতাদের সাথে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানীর জন্য রাজধানীর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত দেশীয় গরু-ছাগল বা পশু রয়েছে। বুধবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পশু হাটগুলোতে বৃহস্পতিবার ক্রেতার উপস্থিতি কম হওয়ায় বেচা-বিক্রির পরিমাণও কম।
উত্তর শাহজাহানপুরের হাটে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে আসা একজন গরু বিক্রেতা নাজমুল সরকার বলেন, বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই হাটে ক্রেতার সংখ্যা অনেকটা কম। ক্রেতাদের অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে পশু বাজারে এসেছেন। আর ক্রেতা যারা আসছেন তারা দর-দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। মূলত: তারা এখন পশু পছন্দ করার কাজটি করছেন বলে জানান তিনি। গরু-ছাগল বিক্রির পরিমাণ কম।
উত্তর শাহজাহানপুরের গরু ছাগলের হাটে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে লাল্টু হোসেন নামের একজন ছাগল ব্যবসায়ি একটি ট্রাকে করে মোট ৯১টি ছাগল নিয়ে এসেছেন। এই ছাগলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন দামের অর্থাৎ ২০ হাজার, ২৫ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল রয়েছে। বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা থেকে রওয়ানা দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা উত্তর শাহজাহানপুর বাজারে এসে পৌঁছেছেন।
খিলগাঁও-এর একজন বাসিন্দা শোয়েব আহমেদ কোরবানীর জন্য এই হাট থেকে সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় একটি মাঝারি ধরণের ছাগল কিনেছেন। তিনি জানান, বিক্রেতারা দাম হাকছেন একটু বেশী। এজন্য একটু দেখে শুনে দর-দাম করে গরু-ছাগল কিনতে হচ্ছে।
মালিবাগ চৌধুরী পাড়া থেকে আসা একজন ক্রেতা সবুজ সরদার, যিনি একটি বেরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তিনি বলেন, তিনি এই হাট থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে কোরবানী দেওয়ার জন্য একটি গরু কিনেছেন। হাটে পর্যাপ্ত দেশী গরু-ছাগল রয়েছে বলে জানান তিনি।
কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা স্থাপিত হাটের একজন পশু বিক্রেতা মনির উদ্দিন বলেন, আশা করছি ছুটির দিন শুক্রবার থেকে পুরোদমে পশু বিক্রি জমে উঠবে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এই কেনা- বেচা চলবে বলে মনে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশি দাম পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ী ও খামারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রাজধানীতে গরু নিয়ে আসেন। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সাতক্ষীরা, যশোর, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগল নিয়ে আসা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে এ বছর ২ হাজার ৩৬২টি কোরবানি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে বসেছে ২৪টি। যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার রাজধানীর চারপাশে হাট বরাদ্দ দিয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাসস’কে জানিয়েছেন।
এছাড়া ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ২৩টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী পশুরহাট বসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪টি হাট রয়েছে।
এদিকে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটসহ কয়েকটি হাটে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ট্রাকে ট্রাকে কোরবানির পশু হাটে ঢুকছে। যে সব বিক্রেতা এরই মধ্যে হাটে এসে পৌঁছেছেন তারা তাদের পশুর যত্ন-আত্তিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পশুর পছন্দের খাবারের পাশাপাশি শিং ও গায়ে তেল মাখাতে দেখা গিয়েছে অনেক ব্যবসায়ীকে।
এবার উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই গাবতলী হাটে গরু নিয়ে এসেছেন।-বাসস