বিশ্ব দৌঁড় দিবস পালিত

2

ডেস্ক রিপোর্টঃ সুস্থ দেহ আর সুন্দর মনই দিতে পারে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি এবং একটি সুন্দর সমাজ। আর সুস্থ থাকার জন্য সব থেকে উপযুক্ত ব্যায়াম হচ্ছে নিয়মিত দৌড়ানো। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান AIS Marine and Offshore এবং বাংলাদেশী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান Green Bangladesh Green Movement এর যৌথ উদ্যোগে পালিত হল Global Running Day বা বিশ্ব দৌড় দিবস। এ দিবস উপলক্ষ্যে অস্ট্রোলিয়ান ম্যারাথন এথলেট, একাধিক বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী Pat Farmer বাংলাদেশের মানুষকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এ বার্তায় তিনি বাংলাদেশের মানুষকে তার মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহন করার আহবান জানিয়েছেন।
১৯৬২ সালে জন্ম নেয়া Pat Farme উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু দৌড়ানো মানব ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিশ্বরেকর্ডধারী। ২০১২ সালে অস্ট্রোলিয়ান রেড ক্রস এর পক্ষ থেকে ফান্ড তোলার জন্য তিনি এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন।এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে তিনি Lifeline Cancer Council, Red Cross, Diabetes Australia and Nanhi Kali Foundation সহ বিভিন্ন চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর পক্ষে মিলিয়ন ডলার ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। Pat Farmer এর আরেকটি পরিচয় হলো তিনি অস্ট্রোলিয়ান পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রনালয়ের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারী হিসাবে দক্ষতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।আর এতো সব অবদানের জন্য অস্ট্রোলিয়ান সরকার তাকে অস্ট্রোলিয়ান অন্যতম সর্বোচ্চ পদক Order of Australia পদকে ভূষিত করেছে।
বিশ্ববিখ্যাত মানবতার ফেরিওয়ালা এই আলট্রা ম্যারাথন দৌড়বিদের পরবর্তী মিশন হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি টেকনাফ থেকে দৌড় শুরু করে দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ কিলোমিটার এবং ৩০ দিনে ২০০০ কিলোমিটারের বেশী দূরত্ব বাংলাদেশের উপর দৌড়াবেন। তিনি এই দৌড়ের মাধ্যমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের জন্য ফান্ড তোলাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সুস্বাস্থ্য সুন্দর পরিবশে শিশু ও নারীর অধিকার এবং সামাজিক মূল্যবোধের জন্য প্রচারণা চালাবেন যা অতীতের মতো অস্ট্রোলিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হবে।
অস্ট্রোলিয়ান প্রতিষ্ঠান AIS Marine & Offshore এবং বাংলাদেশী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান Green Bangladesh Green Movemen যৌথভাবে ইউনিসেফ বাংলাদেশের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এই আল্ট্রা ম্যারাথনের আয়োজন করছে। ইউনিসেফ এই ইভেন্টের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব কর্পোরেট চ্যানেলে বাংলাদেশের জন্য তহবিল সংগ্রহ করবে। ২০২০ সালে, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ৪,৬১,২৮০ জন লোকের জন্য পানীয়, রান্না এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানির পরিকল্পনা করে; ২,৯৩,৭৫০ শিশু মানসম্মত যুবকরা বৃত্তিমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবহার করে। এর জন্য তাদের ২০২০ সালে ১২,৯০,৭০,০০০ মার্কিন ডলার তহবিল প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া তাদের ওডিএ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাপদেশকে বৃহৎ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। ২০১৭/১৮ মোট অস্ট্রেলিয়ান ওডিএ ফলাফল ৮৯.৯ মিলিয়ন ২০১৮/১৯ মোট অস্ট্রেলিয়ান ওডিএ ফলাফল ৯০.৬ মিলিয়ন ২০১৯/২০ মোট অস্ট্রেলিয়ান ওডিএ আনুমানিক ৭০.০১ মিলিয়ন ডলার।
২০১৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া কক্সবাজারে মানবিক প্রতিক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করেছে। অস্ট্রেলিয়ান অর্থায়নে ৪,০০,০০০ এরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোগিঙ্গাদের খাবার বিতরণে (যেমন চাল এবং ডাল) অবদান রয়েছে; অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন ৩৯,২৫৪ শিশু এবং ২১৫ শিশু ও মেয়েদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান নির্মাণসহ ৫৪,৭৮ ২ জন মহিলা ও শিশুদের পুষ্টিকর পরিপূরক সরবরাহকে সমর্থন করেছে। এর ফলে ৪৮,০০০ জনেরও বেশি শিশু উপকৃত হয়েছে এবং সঙকট দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের জন্য পরিষ্কার পানীয় জল, আশ্রয়স্থল ও স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেসের উন্নতি করেছে।
এই তহবিল প্রাক্তন বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী জুলি বিশপ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল। মি: প্যাট ফার্মার অষ্ট্রেলিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সহ প্রাক্তন বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী জুলি বিশপ এবং বর্তমান বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী মারিস প্যায়নি এর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে পরিচিত।তাই তার এই সফর অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের দিপাক্ষিক সম্পর্ককে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।