বিশ্বকাপে কেন বাংলাদেশি আম্পায়ার নেই?

বিশ্বকাপ আসে, বিশ্বকাপ যায়। একের পর এক আইসিসির বড় টুর্নামেন্ট হয়। এসব প্রতিযোগিতায় ক্রিকেট খেলুড়ে বিভিন্ন দেশের আম্পায়াররা ম্যাচ পরিচালনা করেন। কিন্তু এমন মঞ্চে কখনোই দেখা যায় না বাংলাদেশি কোনো আম্পায়ারকে। এই তো গত ২৬ এপ্রিল আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ম্যাচ পরিচালনার জন্য ১৬ জন আম্পায়ার ও ৬ জন ম্যাচ রেফারির চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে আইসিসি।

যে তালিকায় নেই কোনো বাংলাদেশি আম্পায়ার। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কেন বাংলাদেশি আম্পায়াররা সুযোগ পান না? জানা গেছে, এসব টুর্নামেন্টে মূলত এলিট প্যানেল ও ইমার্জিং প্যানেলে থাকা আম্পায়ারদের দায়িত্ব দেয় আইসিসি। যেখানে নেই বাংলাদেশের কোনো আম্পায়ার। এ কারণেই বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশি আম্পায়ার।

গতকাল বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির ইনচার্জ অভি আব্দুল্লাহ আল নোমান জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিসির আন্তর্জাতিক প্যানেলে আছেন বাংলাদেশের চার আম্পায়ার। তাদের মধ্যে শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত বাকিদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। উন্নতি, ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী ২-১ বছরের মধ্যে ইমার্জিং প্যানেলে দেখা যেতে পারে তাকে। আন্তর্জাতিক প্যানেলে থাকা অন্য তিন আম্পায়ার হলেন মাসুদুর রহমান মুকুল, গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদ।

আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল গত পাঁচ বছর ধরে অপরিবর্তিত আছে। এলিট প্যানেলে এখন ১২ জন আম্পায়ার রয়েছেন। বিশ্বকাপের পর এলিট প্যানেলে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। এর বাইরে ছয়জনের একটা ইমার্জিং প্যানেল আছে, যারা ভবিষ্যতে এলিট প্যানেলে সুযোগ পেতে পারেন। আইসিসির বৈশ্বিক যত টুর্নামেন্ট হয় সেখানে এই ১৮ আম্পায়ারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে আম্পায়ারদের দায়িত্ব পাওয়াটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে এই অবস্থানে আসেন আম্পায়াররা। গতকাল জানতে চাইলে অভি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘আইসিসির আন্তর্জাতিক প্যানেলে প্রত্যেক দেশ থেকেই ৩-৪ জন আম্পায়ার থাকে। এর থেকে বাছাই করে আইসিসি। প্রথমে আসবে ইমার্জিংয়ে। তখনই বুঝবেন কেউ ইমার্জিংয়ে আছে, যখন এলিট প্যানেলের বাইরে থেকে কেউ টেস্ট করে। এখন যেমন শ্রীলঙ্কার রুচিরা পালিয়াগুরুগে আছে, ইংল্যান্ডের মাইকেল গফ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জো উইলসন, অস্ট্রেলিয়ার পল উইলসন। ওরা কিন্তু নন-এলিট হয়েও এখন টেস্ট করছে। যেমন ভারতের সি. শামসুদ্দিন ছিল, এখন কিন্তু ও নাই। কাজেই এই তালিকা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইমার্জিং থেকেই আইসিসি পরে এলিটে আনে। এভাবেই বিশ্বকাপ বলেন, আইসিসির টুর্নামেন্ট বলেন, এসব জায়গায় দায়িত্ব পায়। এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এমন নয় যে, কেউ হুট করেই একজন বিশ্বকাপ প্যানেলে চলে আসলো। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, যেহেতু বর্তমানে ইমার্জিং প্যানেলে আমাদের কেউ নেই, সে কারণে বিশ্বকাপে কেউ নেই।’

বাংলাদেশের একমাত্র আম্পায়ার হিসেবে ইমার্জিংয়ে ছিলেন এনামুল হক মনি। এই তালিকায় থাকার কারণে প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে টেস্টে আম্পায়ারিং করেছিলেন। যদিও পরে ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

বর্তমানে শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকতকে নিয়ে আশাবাদী বিসিবি। আম্পায়ার্স কমিটির ইনচার্জ গতকাল বলেছেন, ‘এখন শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত এগিয়ে আছেন। আশা করছি ২-১ বছরের মধ্যে উনি ইমার্জিংয়ে চলে আসবেন। উনি ভালো করছেন। আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স প্রতিনিয়ত রিভিউ হয়। আমি কেন বলছি শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত ভালো করছে, কারণ রিপোর্টগুলো আইসিসি দেয়, আমাদের কাছে আসে এবং আম্পায়ারদের কাছেও যায়।’

আম্পায়ারদের এগিয়ে আনতে কাজ করে বিসিবিও। গতকাল অভি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘বোর্ডের যে জিনিসটা থাকে, অন্য টুর্নামেন্টগুলোতে যেন উনারা ভালোভাবে করে, সুযোগ পায়। একসঙ্গে সবাইকে এগিয়ে নেওয়া যায় না, একজন একজন করে সামনে নেওয়া হয়। এখন আশা করছি দ্রুতই সৈকত ভাই টেস্ট পাবেন।’-ইত্তেফাক