বিএসএমএমইউতে সুচিকিৎসা হবে না খালেদা জিয়ার–মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গেছি, অনুরোধ করেছি খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। সেখানে তাকে পাঠায়নি। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়েছে। এটি সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল। সরকার যা চাইবে, সেভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে হবে। আমরা মনে করি না, সেখানে তার সঠিক চিকিৎসা হবে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে শনিবার দুপুরে কল্যাণ পার্টির চতুর্থ জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তার অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গেছে যে, এখন তিনি হাঁটতে পারেন না, কোনো কিছু খেতে পারছেন না। দেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধীদলীয় নেতা, তাকে এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এটা মানবাধিকারবিবর্জিত।

আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কীভাবে ক্ষমতায় টিকে আছে? শুধু বন্দুকের নলের জোরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণ করায়ত্ত করে জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। আওয়ামী লীগ চক্রান্তকারীদের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তিনি বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে দীর্ঘকাল ধরে যারা চক্রান্ত করছে তাদের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতায় টিকে আছে। আজ আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সম্পূর্ণ দূরে। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জোর করে ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। সাময়িক সময়ের জন্য থাকা যায়, বিশ্বের ইতিহাস তা-ই বলে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রায়ই বলে, বিএনপি চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি কোনোদিন চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসেনি। বিএনপি প্রতিবার জনগণের সুষ্ঠু ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কখনোই পেছনের দরজা বা অসুস্থভাবে ক্ষমতায় আসেনি।

বিএনপির কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়নি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধান একটি ‘মিথ্যা’ কথা যদি বারবার বলেন, তা জনগণ বিশ্বাস করে। এ দেশের মানুষ সবাই জানে, বিএনপি নেতাদের ও খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা মামলা না কি সত্য মামলা।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে কবর দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের অনেক আগেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। ১/১১’র সময় যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তা অসাংবিধানিক সরকার। আজ যারা অবৈধ ক্ষমতায় আছে, তারা দীর্ঘকাল আন্দোলন করে তাদের এনেছিল। তখনও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গর্ব করে বলেছিলেন, ১/১১’র সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। এসব কথা আমরা ভুলে যাইনি।

নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে কে বলেছে আমাদের পরাজয় হয়েছে? পরাজিত হয়েছে তো আওয়ামী লীগ। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলে আমাদের বুকের ওপর যে জগদ্দল পাথর, দানব বসে আছে তাদের সরিয়ে দেব।

২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনো ফাটল নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের ঐক্য সুদৃঢ় আছে।

সম্মেলনের প্রধান আলোচক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের বাহন নির্বাচন। আমরা সবাই জানি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে হয়ে গেছে। এ নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। ভোট দিয়েছে সরকারি কর্মচারী ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা এবং তাদের পাহারা দিয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব।

এদিকে কল্যাণ পার্টির চতুর্থ সম্মেলনে আবারও দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন এমএম আমিনুর রহমান এবং যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন নুরুল কবির ভুঁইয়া। সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এসব নাম ঘোষণা করে বলেন, আমাকে চতুর্থবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় দলের সব পর্যায়ের কাউন্সিলরদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আজাদ মাহবুব, মোহাম্মদ ইলিয়াস, সহসভাপতি মতিউর রহমান, শাহিদুর রহমান তামান্না, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শাহানা সুলতানা শিলা, শামসুদ্দিন পারভেজ. মাহমুদ খান প্রমুখ।-যুগান্তর