বিএনপি এখন কী করবে

5

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে আইনি পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। পরপর দুই দফা দেশের উচ্চ আদালতে তার জামিন না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিএনপি। স্তম্ভিত বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও। এইসঙ্গে এসব নিয়ে বিএনপির ওপরও চরম ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। খালেদা জিয়ার জন্য এখন পর্যন্ত বড় কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের তুলাধোনাও করছে তৃণমূল বিএনপি। তারা অবশ্য বেগম জিয়ার মুক্তিতে আন্দোলনেই ভরসা দেখছেন।

দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সামনে হয়তো-বা প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে হবে, নতুবা আন্দোলনের পথেই ফিরে যেতে হবে বিএনপিকে। করণীয় নির্ধারণে ওইদিন রাতেও দলের সিনিয়র নেতা ও আইজনীবীদের সঙ্গে লন্ডন থেকে ফোনে কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরবর্তীতে করণীয় নিয়েও তাদের মতামত চেয়েছেন। শিগগিরই আবার আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এখনো আইনি পথ সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ হয়ে যায়নি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা নিয়ে আমরা আবার আপিল বিভাগেও যেতে পারি। তবে সেখানে রেজাল্ট কী হবে তা নিয়ে আমি মোটেও আশাবাদী নই। আবার সর্বোচ্চ আদালত অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের কথা বলেছে। অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই বিদেশে যান। সেই যুক্তিতে ম্যাডামকেও সর্বোচ্চ আদালত সে সুযোগ দিতে পারে। তারপরও আমি বলব, এই মামলা রাজনৈতিক। তাই সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি মিলবে না। এ জন্যই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আমাদের রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্য বিকৃত হয়েছে, কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি, বললেন পরিকল্পনামন্ত্রী ≣ কবরস্থানে নিজেরই স্মৃতিস্তম্ভ আবিষ্কার করলেন স্কটিশ বৃদ্ধ ≣ সংবাদ সম্মেলনে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন ইশরাক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের প্রভাবের কারণে ন্যায়বিচার পাওয়াই কঠিন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাই কোর্টের আদেশে আমরা স্তম্ভিত। এ কারণে আইনি লড়াইয়ে বেগম জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনাও কম। আমরা আগামী শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছি। সামনে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করছি। প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্রের নেত্রীকে মুক্ত করব।’

বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা জানান, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে সর্বোচ্চ আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তাই বেগম জিয়ার জামিনও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে না। সরকারের নির্বাহী বিভাগের সদিচ্ছা থাকতে হবে। যেহেতু সরকারের সদিচ্ছা নেই, তাই আন্দোলনই বিএনপির ভরসা। দল গুছিয়ে শিগগিরই আন্দোলনে যেতে হবে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বেগম জিয়ার কারাগারে থাকা আমাদের দলের নেতাদের চরম ব্যর্থতা। এমন কর্মসূচি দেওয়া উচিত যাতে বেগম জিয়াকে কারামুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথেই ফিরে যেতে হবে বিএনপিকে। তাদের ভাষ্য, তৃণমূল প্রস্তুত থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ধীরগতির নীতি গ্রহণে ক্ষুব্ধ মাঠের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, বিএনপির ৫০২ সদস্যের ঢাউস নির্বাহী কমিটির সবাই মাঠে নামলে আজ বেগম জিয়ার এই অবস্থা হতো না। দলের ১১টি অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাও আছেন। তারাও এ ব্যাপারে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। এ জন্য আগামীতে সব কমিটিতে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, তারা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য প্রয়োজনে প্যারোলের আবেদনেও প্রস্তুত। কিন্তু এ নিয়ে বেগম জিয়ার সম্মতি পাচ্ছেন না। পরিবারের সদস্যরা জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কারাগারে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই তারা প্যারোলের জন্যও প্রস্তুত। এ দিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্যারোল নিতে হলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বেগম জিয়ার কাছে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার বললেও তিনি নাকচ করে দেন। বেগম জিয়া পরিবারের সদস্যদের বলেন, জামিন তার প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার। তিনি প্যারোল নয় জামিনে মুক্তি নিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান।

প্যারোলে মুক্তি প্রসঙ্গে অ্যাডভোটেক খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতেই পারেন। এ জন্য তাকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে- এটা আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী এমনকি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন। তাছাড়া সরকার চাইলে আইনের আরেক প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে। সেটি হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে বেগম জিয়ার সাজা সাময়িক স্থগিত করে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে পারে।বাংলাদেশ প্রতিদিন