”বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ঘরের মধ্যে মাছ চাষ”

49

জসিম উদ্দিনঃ আমেরিকা, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়শিয়া, চায়না, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত মাছ চাষের পরিবর্তে শুরু হয়েছে ঘরের মধ্যে টাঙ্কি পদ্ধতিতে মাছ চাষ। এরমধ্যে আরএএস ও এ্যাকুয়াফনিক্স পদ্ধতিটি মোটামুটি এতদিন যাবৎ সকলের মধ্যে প্রচলিত ও গ্রহনযোগ্য ছিল। কিন্তু এ পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত ব্যায়সাধ্য ও জটিল হওয়ায় সম্প্রতি এখানে যুক্ত হয়েছে আরো একটি নতুন পদ্ধতি যার নাম বায়োফ্লক পদ্ধতি।

এটি সম্পূর্ন নতুন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি নির্ভর হলেও অত্যন্ত সাশ্রয়ী, সহজ ও লাভজনক। আরএএস ও এ্যাকুয়াফনিক্স পদ্ধতির মতো এ পদ্ধতিতে ব্যাপক প্রযুক্তির সমাগম নাই এবং প্রতিনিয়ত পানি বদলানোর প্রয়োজন পরেনা বিধায় খরচ নিতান্তই কম। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অল্প যায়গায় অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করে অধিক উপার্জন সম্ভব যা প্রচলিত পুকুর পদ্ধতিতে বা অন্যকোন পদ্ধতিতে মোটেও সম্ভব নয় এবং এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ সম্পূর্ন নিরাপদ। বায়োফ্লক পদ্ধতির একটা বড় আশার যায়গা হলো কোন কারনে ব্যবস্থাপনা কিংবা কোন ক্রটির কারনে উদ্যোক্তা চাষে ব্যার্থ হলেও ফতুর হয়ে যাবার সম্ভাবনা একেবারে নেই।

এ পদ্ধতির চাষের মাছ সম্পূর্ন স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু ফলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে যে কোন পেশার যে কোন মানুষ ছোট্ট একটি ট্রেনিং এর মাধ্যমে অল্প বিনিয়োগে, অল্প সময়ে সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বানিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে বাজারজাত করনের মাধ্যমে দেশীয় বাজার দখল ও রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন খুবই সম্ভব। ইতিমধ্যে ভারত হয়ে এ পদ্ধতিটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে প্রায় বছর দেড়েক হলো। সরকারী পর্যায়ে এর কোন পৃষ্ঠপোষকতা বর্তমানে না থাকলেও বেসরকারী পর্য়ায়ে এ পদ্ধতিটি নিয়ে ব্যাপক উদ্দিপনা ও সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বায়োফ্লক পদ্ধতির একটি অন্যতম অংশ হলো প্রবায়োটিক। প্রবায়োটিক মাছের উচ্ছিষ্ট খাবার ও তার থেকে তৈরী নাইট্রেট, নাইট্রাইট, অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত পদার্থগুলিকে প্রটিন সেলে রূপান্তরিত করে খাদ্যকণায় পরিনত করে। আর উৎপণ্য এ নতুন খাদ্যকণাকে বলা হয় ফ্লক। এই ফ্লক হলো একধরনের জীবন রক্ষাকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা মাছের জীবন রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি চক্রবৃদ্ধি হারে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটায় এবং কলোনী আকারে বাস করে। মাছ এ ব্যকটেরিয়াগুলিকে থাদ্য হিসাবে গ্রহন করে এবং দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। মাছ ফ্লক গ্রহন করার কারেনে প্রচলিত যে খাদ্য মাছকে খাওয়ানো হয় তা তুলনমুলক কম প্রয়োজন হয় তাতে ব্যাপক খ্যাদ্য সাশ্রয় ঘটে এবং মাছ চাষে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়।-লেখকঃ সিইও, জেরিকো ও সাবেক এভিপি ডিজাইন, এটিএন বাংলা।