বাবলুকে অব্যাহতি, নতুন মহাসচিব হাওলাদার

যুগবার্তা ডেস্কঃ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলুকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তার পরিবর্তে পুনরায় রুহুল আমীন হাওলাদারকে পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বনানীর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমার দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমি একা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি সে ক্ষমতা আমার আছে।’
এর আগে স্ত্রী রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ঘোষণা করাকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর ঢাকায় দেওয়া ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার রাতে রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। জাতীয় পার্টিকে ভাঙার চেষ্টা চলছে দাবি করে এজন্য দলের আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ নেতাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ।
এরশাদ রোববার নিজের জেলায় সংবাদ সম্মেলন করে ভাই জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ও উত্তরসূরি ঘোষণা করলে তার পাল্টায় সোমবার রাতে ঢাকায় রওশনের বাড়িতে এক বৈঠকে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রংপুরে অবস্থানরত এরশাদ তার প্রতিক্রিয়া জানাতে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ডেকে বলেন, ‘আমিই পার্টির চেয়ারম্যান। সভাপতিম-লীর সভা আহ্বান করার এখতিয়ার শুধু আমার। আমি ছাড়া সভাপতিম-লীর কোনো সভা কেউ ডাকতে পারেন না।
“ডাকলেও তা হবে গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করাটাও অবৈধ। যারা করেছে তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।”
সোমবার রওশনের বাড়িতে বৈঠকের পর মহাসচিব বাবলু বলেছিলেন, দলের গঠনতন্ত্রে কো-চেয়ারম্যানের কোনো পদ নেই।
এরশাদের ‘গঠনতন্ত্রবহির্ভূত’ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দলের সভাপতিম-লী ও পার্লামেন্টারি পার্টির যৌথ বৈঠকে রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় এরশাদ বলেন, “আমার অবর্তমানে দলের হাল ধরবেন আমার ছোট ভাই জি এম কাদের। সে কারণেই তাকে আমি গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারায় কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছি। চেয়ারম্যান হিসেবে সে ক্ষমতা আমার আছে।”
এরশাদের স্ত্রী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীতে রয়েছেন। এরশাদের ভাই জি এম কাদেরও সভাপতিম-লীর সদস্য।
দুই বছর আগে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে দুজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই এরশাদ বলেছিলেন, রওশনই তার কান্ডারি। তবে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, রওশনকে যারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“এর আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছিলাম। রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মহাসচিব করেছি। তখন তো কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি।। এখন প্রশ্ন তুলছেন কেন?”
বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নাটকীয় অংশগ্রহণের পর এরশাদের দল বিরোধী দলের আসনে বসার পাশাপাশি সরকারেও অংশ নেয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মন্ত্রী এবং মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রতিমন্ত্রী হন।
সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় পার্টি গঠনকারী এরশাদ বলেন, “সঙ্কটময় মুহূর্তে আমি যখন দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন করে দলকে নিয়ে ভাবছি: ঠিক এমন সময় দলের ভেতরে একটি চক্র দলকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।”
তারা কারা- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কারা জাতীয় পার্টি করেন, আর কারা করেন না, রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে তাদের স্বরূপ বেরিয়ে এসেছে।”
ভাইয়ের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকা জি এম কাদের বলেন, “একটি অংশ বেশ কিছুদিন ধরে দলকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে তাদের মুখোশ উম্মোচিত হল। তবে তারা কোনোভাবেই সফল হবে না।
“এরশাদ যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তিনিই চেয়ারম্যান থাকবেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী দল চলবে। আমিও চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতো দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”মহসীন উদ্দিন ও রফিক আহমদ :আমাদের সময়.কম