তিতাস,বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: বাঙ্গালির এককালের বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ যাত্রাপালা বিলুপ্ত প্রায়। ঐতিহ্যবাহি সেই গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গালিমপুরের শতবর্ষী গিরীশ নাট্য মন্দিরকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন সময় মঞ্চস্থ হয় সিরাজউদ্দৌলা, টিপু সুলতান, সাগর ভাষা, রানী ভবানী,পরাজিত স¤্রাট, গৌরিমালাসহ বিখ্যাত যাত্রাপালা। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে বকুল স্মৃতি থিয়েটারের আয়োজনে গিরিশ ধাম সংলগ্ন মঞ্চায়ন হয় ‘গৌরিমালা’ যাত্রাপালা।

স্থানীয় শিল্পিরা এতে অংশ নেয়। দর্শক উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকেরা জানান, যাত্রাটির রচয়িতা আসাদ আলী এবং পরিচালনা ও নির্দেশনায় ছিলেন দেবাশীষ কুন্ডু। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জালাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, জিন্নাত আলী, মাসিদুল, মনি, মজিবর, আমিরুল, পাশলা, শেফালী, চায়নাসহ ১৩জন স্থানীয় শিল্পী। যাত্রাপালাটি দেখতে আসেন গ্রামের শত-শত নারী-পুরুষ।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ইলামিত্র অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী মসগুল হোসেন ইতি জানান, মঞ্চস্থ গৌরিমালা ঝুমুর যাত্রাপালাটি মুলত: নিঃসন্তান রাজা এর কাহিনী নির্ভর। রাজা আঁটকুড়ো এর অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করতে গিয়েও না পেরে রাজ্য ছেড়েই চলে যান। পরে সাধুবাবার পরামর্শে আঁটকুড়ো ঘুচে যমজ সন্তান লাভ করেন। কিন্তু সেই সন্তানদের একজন ভাল এবং অপরজন মন্দ হওয়ায় দুই রাজকুমারের মধ্যে দ্বন্দে¦র সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্বে পুত্রের হাতে রাজা বন্দী হয়। পরে দূর্বৃত্ত্বের অবসান ঘটে এবং রাজা পূনরায় মুক্ত হয়ে রাজ্যভার গ্রহন করেন। রাজার কাহিনী নির্ভর যাত্রাপালাটি দেখতে আসা গ্রামীণ নারী-পুরুষ বেশ উপভোগ করেন।

এদিকে রাত নয়টায় যাত্রাপালা শুরু হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল। উদ্বোধনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপালাটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক মলয় কুমার রায়, যাত্রাপালা ফেডারেশনের নাটোর জেলা সভাপতি প্রভাষক ফারুখ হোসেন, বকুল স্মৃতি থিয়েটারের সভাপতি মাহবুব হোসেন প্রমুখ। উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল বলেন, প্রায় একশ বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে বাগাতিপাড়ার গালিমপুর গিরীস নাট্য মন্দির। এখানে মূলত অভিজাত হিন্দু পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় নাট্য মন্দিরে এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হতো বিখ্যাত যাত্রাপালা। এ নাট্যমন্দিরে স্থানীয়রাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্পী ও কলাকুশলীরা এসে অভিনয় করত। বর্তমানে এমন যাত্রাপালার আয়োজন দেখে তিনি অভিভূত হন। এছাড়াও তিনি চান, আকাশ সংস্কৃতির উন্মাদনা ভুলে আবারও রাত জেগে মানুষ মঞ্চ নাটক ও যাত্রাপালা দেখুক।