বাউলদের অশ্রুতে সাঙ্গ হলো লালন শাহের প্রয়াণ দিবস

5

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ফকির লালন শাহের ১৩০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও হাজারও বাউল ফকির এসে জমা হয় লালনের মাজারে। কিন্তু এবার মাজার প্রাঙ্গণে কোনো সাধুসঙ্গ হয়নি। বাউলরা এসে জমা হয় সাইজীর মাজারের সামনে। কিন্তু কোনো বাউল ফকিরকে মাজারে এবং লালনের আখড়াবাড়ি-সংলগ্ন মাঠ এলাকায় অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি। তাই দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

লালন একাডেমির সদস্যসচিব কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নেজারত মো. সাইফুর রহমান ১৫ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ১৬ অক্টোবর সাধুসঙ্গ করতে গেট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গেট খুলে দেওয়া হয়নি। বাউলরা মহাশ্মশান এলাকায় এবং পাশ্ববর্তী ভোটন সাধুর বাড়িতে এবং ভাবনগর শিল্প ও সাহিত্য চর্চাকেন্দ্রে অবস্থান নেন। সেখানে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন ভাবনগর এবং ভোটন সাধু।

এবার বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে লালন একাডেমি মেলা’সহ আনুষ্ঠানিকতা না করার ঘোষণা দেন। পুলিশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাউলদের সরিয়ে দেয়। বাউল ফকিররা মাজারের গেটে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একসময় তারা চলে যান। শনিবার দুপুরে প্রায় সব বাউল চলে যান মাজার এলাকা ছেড়ে।

বাউল সাধক এনাম শাহ বলেন, এবার সাধুসঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে করতে দেওয়া হয়নি। অল্পকিছু বাউল আলাদা আলাদা ভাবে বসে সাধকদের বাড়িতে কিংবা কোনো সংগঠনের অফিসে সাধুসঙ্গ করেছেন।