বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের আলোচনা

146

যুগবার্তা ডেস্কঃ শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশনে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারী শিক্ষক সমাজ এর উদ্যোগে “প্রাথমিক শিক্ষা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে রুখবে সহকরী শিক্ষক সমাজ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভপতি তপন মন্ডল।
আলোচনা সভায় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য, নব্য জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষদের স্ব-পদে বহাল রাখাসহ জাতীয়করণ শিক্ষক কর্তৃক অহেতুক হাইকোর্টে মামলা করে প্রাথমিক শিক্ষাকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, সহকারী শিক্ষদের ১০ বছর পদোন্নতি বন্ধ থাকার পর প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয় চলতি দায়িত্ব দেয়া শুরু করেছিল। কিন্তু জাতীয়করনকৃত শিক্ষকদের দায়ের করা রিটে চলতি দায়িত্ব বন্ধ হওয়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ ফেটে পরেছেন। জাতীয়করনকৃত শিক্ষকবৃন্দ তাদের অযৌতিক আবদার পুরনের জন্য তারা প্রায় দুই শতাধিক মামলা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে চলেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আছাদুজ্জামান বলেন, জাতীয়করনের সময় ১ম ধাপে যদি প্রধান শিক্ষকদের স্ব-পদে বহাল রাখা না হত তবে অত্র মামলার জন্ম হত না। জাতীয়করনকৃত শিক্ষকবৃন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষদের চেয়ে বেশী সুযোগ নেয়ার প্রতিযোগীতায় মত্ত।
সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আরেফিন মিলন বলেন, ২০০৮ সালের পূর্বে রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন প্রধান শিক্ষাক পদ ছিল না। সকলে সহকারী শিক্ষক। ২০০৮ সালে তাদের বিনা গ্রেডেশনে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেযা হয়। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের চেয়ে অনেক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক গ্রেডেশন তালিকায় জেষ্ঠ্যতা ছাড়া পদোন্নতি পায় না। ০১/০৮/১৯৭৩ ও ১৯/০৬/১৯৮৭ সালে বিদ্যালয় জাতীয় করনকার সময় কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক হিসাবে পদায়ন করা হয় কিন্তু ০১/০১/২০১৩ তারিখে দেশের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের স্ব-পদে বহাল রাখায় প্রাথমিক শিক্ষায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম জাফর বলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ০১/০৮/২০১৭ তারিখে জারীকৃত সম্মিলিত গ্রেডেশন তালিকার তৈরির নির্দেশের ফলে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চরম অবহেলা ও বঞ্চিত করা হয়েছে।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষাকগণ এত বঞনার শিকার যে তারা মানবিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সভায় সকল বক্তাগণ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ৩০ শে অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১লা নভেম্বর থেকে সহকারী শিক্ষকগণ পরীক্ষা বর্জন সহ একটানা কর্মবিরতী পালন করেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, এহসানুল হক মিলন, কামরুন নাহার মুন্নি, জাহিরুল ইসলাম, মামলার বাদী লুৎফর রহমান, আব্দুল ওহাব প্রমুখ।