বাংলাদেশে ইতিহাসকে মুক্তভাবে চর্চা করা যায় না–মান্না

17

ডেস্ক রিপোর্ট: নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বাংলাদেশে ইতিহাসকে মুক্তভাবে চর্চা করা যায় না। ভারতে মহাত্মা গান্ধীর সমালোচনা হয়, চীনে মাও সে তুংয়ের সমালোচনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে আইন করে এটা বন্ধ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বললেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য এটাই যথেষ্ট। কিন্তু তাহলে ১৫-২৩ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে কি আলোচনা করলেন? এই ইতিহাস কি কোথাও লেখা আছে? ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আলোচনায় কি অগ্রগতি আছে? তিনি বললেন, অগ্রগতি যদি না হয় তাহলে কথা বলছি কেন? কথা হলো, আলোচনায় অগ্রগতি হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা হলো কীভাবে?
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যার যা আছেবতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেন। তিনি জনগণকে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেন। কিন্তু শেখ হাসিনা বললেন, ৭ মার্চ রব সাহেবরা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাতে সায় দেয়নি। ওনার কথা ধরে নিলে ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা হয় কীভাবে? খন্দকার মোসতাক বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সঙ্গে জড়িত। ঠিক আছে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি আসনে নির্বাচিত প্রার্থীর ব্যালট বাক্স ঢাকায় এনে মোস্তাককে জয়ী ঘোষণা করা হলো। এগুলো ইতিহাস। কিন্তু এর চর্চা হয় না। কিন্তু সেই সময়েও একজন মানুষ ছিলেন মওলানা ভাসানী। তিনি বাধার মুখেও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। যেখানেই বাধা পেয়েছেন নিপিড়ীতদের নিয়ে বসে পড়েছেন।

রাজধানীর বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আজ (১৭ই নভেম্বর) মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভার একথা বলেন তিনি।

সভায় বিংশশতকী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ, মজলুমের কন্ঠস্বর ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা হয়ো। এতে সভাপতিত্ব করেন যুব অধিকার পরিষদের আহবায়ক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ফরিদুল হক।