বহুতলে ধাক্কা খেয়ে মরছে কোটি পাখি

আকাশছোঁয়া ইমারতের দাপটে আকাশটুকুও আর ঠিকমতো নজরে আসে না। কংক্রিটের সেই বহুতল ভবনেই অবশ্য চকচকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জীবন মার্কিনদের।

কিন্তু মানুষ বাদেও তো এ পৃথিবী প্রাণিময়! আর তাদেরই একটি অংশ এই আকাশছোঁয়া বহুতলের ‘তাণ্ডবে’ প্রতিবছর প্রাণ হারাচ্ছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে উত্তরের দিকে যাওয়া-আসার পথে গগনচুম্বী বহুতলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কিংবা ভবনের কাচের কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে বহু পাখি। আর সংখ্যাটা বছরে প্রায় ১০০ কোটি।
সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। পাখির জন্য বিপজ্জনক মার্কিন শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে শিকাগো। প্রতি হেমন্ত ও বসন্তে প্রায় ২৫০ প্রজাতির কোটি কোটি পাখির যাতায়াতে পথের মধ্যে পড়ে কাচ-ঢাকা এই ‘বহুতলের শহর’। বসন্তের সময় মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তরে কানাডার দিকে ও হেমন্তের সময় ফের দক্ষিণে-এভাবেই বছরে দুইবার যাতায়াত করে কোটি কোটি পাখি।

শিকাগোর পাশাপাশি পাখির জন্য আরেকটি ‘মৃত্যুফাঁদ’ ম্যানহ্যাটান। নিউ ইয়র্ক শহরের পাখি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে-এমন এক সংগঠনের পরিচালক সুজান এলবিন বলেন, ‘পাখিরা এসব বহুতল ঘেরা শহরে ঢুকে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

গন্তব্য চিনতে না পেরে অন্যত্র চলে যায়। তারপর যখন দিনের আলো ফোটে, যখন খাবারের প্রয়োজন পড়ে, তখন তারা গাছের সন্ধানে উড়ে যায়। কিন্তু আসলে গাছ নয়, ওই কাচের বহুতলে গাছের যে প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে, সেগুলোকেই গাছ ভেবে ভুল করে সেগুলোয় গিয়ে আছড়ে পড়ে তারা। সেখানেই মৃত্যু হয় তাদের। ’
এ তো গেল দিনের আলোর সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে যেসব পরিযায়ী পাখির দল দেশান্তরী হয়, তারা সাধারণত রাতেই উড়তে ভালোবাসে। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় গগনচুম্বী ভবনগুলো। কারণ রাতের বেলা ওই বহুতলগুলোর চোখ ধাঁধানো আলোয় দিক ভুল করে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ে পরিযায়ী পাখির দল।

কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজির সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, শিকাগো ও ম্যানহাটান ছাড়াও পরিযায়ী পাখিদের ভ্রমণপথের মধ্যে রয়েছে হিউস্টন, ডালাসের মতো বড় শহরগুলো। লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক, সেন্ট লুই এবং আটলান্টা শহরেও একই রকম বিপত্তির মুখে পড়ে পাখির দল।-কালেরকন্ঠ