বরিশালে বেসিক ব্যাংকে লোকসানের পাল্লা ভারি

বরিশাল প্রতিনিধিঃ প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক সেবার কথা না ভেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আভ্যন্তরীন বিরোধের কারণে লোকসানের ঘানি টেনে যাচ্ছে বেসিক ব্যাংকের বরিশাল শাখা। চলতি বছরের মাত্র ৬ মাসেই ৩৮ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানকে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা সংশি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সাল থেকে বরিশালে পথচলা শুরু করে বেসিক ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেড। নগরীর চক বাজারে স্থাপিত এই ব্যাংকটি শুরুতে গ্রাহক সেবায় বেশ সুনাম অর্জন করেছিলো। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সেবার মান, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ডিপিএস সেবাসহ সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকটি শুধু লোকসান দিয়ে আসছে। আর এজন্য বেসিক ব্যাংক বরিশাল শাখার কর্মকর্তা-কর্মীচারীদের অভ্যন্তরীন কোন্দলকেই দায়ি করা হয়েছে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, এ ব্যাংকের লোকসানের প্রধান কারন গ্রুপিং এবং প্রভাব বিস্তার। ব্যাংকের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ২ বছর পূর্বে বরিশাল শাখার সেকেন্ড ম্যান (অপারেশন ম্যানেজার) হিসেবে যোগদান করেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মো. মাহফুজুর রহমান। তার যোগদানের পর পরই বেসিক ব্যাংক বরিশাল শাখায় বেড়ে যায় অভ্যন্তরীন কোন্দল। যেকারণে লোকসানের হিসাব বাড়তে শুরু করে। সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, পটুয়াখালীর প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ও চাকুরীচ্যুত কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের পুত্র জামায়াত নেতা মাহফুজুর রহমান অপারেশন ম্যানেজার ও তার বড় বোন মানসুরা বেগম একই শাখার সহকারী ক্যাশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুই ভাই-বোন একই শাখায় কর্মরত থাকায় তারা ব্যাংকের মধ্যে রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও তার (মাহফুজুর রহমান) অবাধ্য হলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তিমূলক বদলি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রভাব খাটিয়ে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করিয়েছেন। মাহফুজুর রহমানের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ব্যাংকের সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন আর্ম গার্ড হাবিবুর রহমান। তারা ব্যাংকের প্রধান অফিসের ক্ষমতা দেখিয়ে ব্রাঞ্চের স্বয়ং ম্যানেজারকেও কোনঠাসা করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যাংকিং সেবার বিষয়ে নগরীর চক বাজার এলাকার একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা জানান, বেসিক ব্যাংকটি চালুর পর তাদের কার্যক্রম বেশ ভালই ছিলো। কিন্তু নতুন অপারেশন ম্যানেজার মাহফুজুর রহমানের যোগদানের পর পরই পুরো ব্যাংকের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্রাহকদের হয়রানি ও তাদের সাথে অশোভনীয় আচরণের ফলে তারা এখন বেসিক ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ করে অন্যান্য ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করছেন। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত অপারেশন ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তবে গ্রুপিং ও লোকসানের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।