বরিশালে বিভাগে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীদের পেশা ব্যবসা

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে ॥ বরিশাল বিভাগের ১৭ পৌরসভার আওয়ামী লীগের আটজন মেয়র প্রার্থীর কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। ১০জন প্রার্থীর মধ্যে একজনের ৭৫ লাখ ও একজনের ১৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। তবে পেশায় অধিকাংশ প্রার্থীই ব্যবসায়ী। ১০টি পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানিয় নির্বাচন কমিশন ও প্রার্থীদের সুত্রে জানাগেছে বরগুনা সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ এলএলবি পাস করে বরগুনায় আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। আইন পেশা থেকে বছরে তিনি ২ লাখ ৮০ হাজার আয় করেন। নগদ ১৩ লাখ ও ৭০ হাজার ব্যাংক হিসাবে টাকা রয়েছে। ২০ ভরি স্বর্ণ উপহার ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যে পাঁচ ভরি ক্রয় করেছেন। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে দালান নির্মাণাধীন রয়েছে, যার বিবরণ উল্লেখ করেননি। হলফনামায় কোনো প্রকার ফৌজদারি অভিযোগের উল্লেখ নেই।
বেতাগী পৌরসভার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রাথী এবিএম গোলাম কবির এমবিএ পাস করেছেন। টিন, সিমেন্ট, রড, ইটের ভাটা ও ঠিকাদারী ব্যবসা থেকে বছরে তিনি ২ লাখ ২ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া কৃষি থেকে ২০ হাজার ও বাড়ি-দোকান ভাড়া থেকে বছরে ৬৮ হাজার টাকা আয় করেন। নগদ ৫০ হাজার ও ব্যাংকে ১ লাখ টাকা রয়েছে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে একটি মিনিবাস ও একটি মাইক্রোবাস উল্লেখযোগ্য। স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে চার দশমিক ২০ একর কৃষি জমি, ১০ শতক অকৃষি জমি, পাকা দালান দুটি ও আধা পাকা একটি স্থাপনা। রূপালী ব্যাংকের বেতাগী শাখা থেকে সিসি লোন রয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। হলফনামায় কোনো ফৌজদারি অপরাধের উল্লেখ নেই।
ভোলার দৌলতখান পৌরসভার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। কৃষি কাজের পাশাপাশি মৎস্য চাষ করেন। কৃষি থেকে ৯০ হাজার ও ব্যবসা থেকে ১ লাখ টাকা বছরে আয় করেন। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে স্ত্রীর ১০ভরি স্বর্ণ থাকলেও নিজের আসবাবপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি জমি উল্লেখ করলেও তার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তার কোনো ব্যাংক ঋণ কিংবা মামলা নেই।
বোরহানউদ্দিন পৌরসভার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিএ পাস। পৌরসভার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও গাজীপুরের জয়দেবপুরে মোজাইক সামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। এ প্রার্থীর নামে চারটি মামলা রয়েছে। তবে প্রতিটি মামলায় তিনি খালাসপ্রাপ্ত। ব্যবসা থেকে বছরে ৯১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৭৯ টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৩ টাকা ও মেয়র হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বছরে আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যবসায়ের মূলধন, নগদ ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭৫ টাকা, ৬০ ভরি স্বর্ণ, উপহার হিসেবে ইলেষ্ট্রনিক ও আসবাবপত্র নিজের কাছে রয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রীর কাছে নগদ ৬৫ হাজার, ব্যাংকে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৩, সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০, মোটর গাড়িতে ২২ লাখ, ৪০ ভরি স্বর্ণ, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। নিজ নামে ১ কোটি ২৪ লাখ ৩২ টাকা মূল্যের কৃষি জমি ও ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৩ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি বা এপার্টমেন্ট রয়েছে। তিনি একটি ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন।
উজিরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন বেপারী বিএ পাস। ঠিকাদারী ও সরবরাহকারী ব্যবসা থেকে বছরে তিনি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮০ টাকা আয় করেন। স্ত্রী ফারজানা ফেরদৌস চাকরি করে বছরে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা আয় করেন। নিজ নামে নগদ ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৪ ও ব্যাংকে ২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নিজের স্থাবর সম্পদ না থাকলেও স্ত্রীর রয়েছে তিন একর কৃষি জমি, ৫০ শতক অকৃষি জমি ও একটি বাড়ি। ব্যাংক ঋণ কিংবা কোনো প্রকার মামলার অভিযোগ নেই।
গৌরনদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. হারিছুর রহমান। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস। তার বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি পেশা হিসেবে পৌর মেয়র ভাতা ও গৃহ সম্পত্তির আয় উল্লেখ করেছেন। পৈত্রিক সূত্রে তিনি ২৫ দশমিক ১২ শতক বাড়ি, ১ হাজার ৪৬২ অযুতাংশ কৃষি জমি, ৫০ ভরি স্বর্ণ ও ব্যাংকে ১৮ লাখ ৮ হাজার ৪৪৭ টাকা অস্থাবর সম্পদ এবং পৌর মেয়র হিসেবে তিনি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, কৃষি থেকে ৯০ হাজার টাকা বছরে আয় করেন। তার কোন ব্যাংক ঋণ নেই।
বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লোকমান হোসেন ডাকুয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতায় এইচএসসি পাস। পেশায় মৎস্য চাষী। কৃষি থেকে ১৮ হাজার, ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার ও সম্মানী হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বছরে আয় করেন। নগদ ৫০ হাজার, ব্যাংকে ১ লাখ, ১৪ শতক কৃষি জমি ও ২৫ শতক অকৃষি জমি স্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তার নামে কোন ব্যাংক ঋণ নেই। মামলা থাকলেও তা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।
বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল। এমএসএস পাস করে আইন পেশায় নিয়োজিত। কৃষি থেকে ৭ হাজার ২’শ, ভাড়া থেকে ১৬ হাজার ৮’শ, সঞ্চয়পত্র থেকে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯২১ ও আইন পেশা থেকে ৪ লাখ টাকা বছরে আয় করেন। নগদ ৯৬ হাজার ২০৬, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৯৯, ৩০ভরি স্বর্ণসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ৫০ শতক কৃষি, তিন শতক অকৃষি ও পৈত্রিক সূত্রেপ্রাপ্ত দালান স্থাবর সম্পদ। ব্যাংক ঋণ ও মামলা কোনোটাই নেই।
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তছলিম উদ্দিন চৌধুরী এইচএসসি পাস। মৌসুমী ফল গুদামজাতকরণ (ক্ষুদ্র) ও মৎস্য চাষী। কৃষি থেকে ৭ হাজার, ব্যবসা থেকে ২ লাখ ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বছরে আয় করেন। নগদ ২৫ হাজার ও ব্যাংকে ৮০ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ৭০ শতক কৃষি, ৩১ শতক অকৃষি, একতলা দালান ও একটি মৎস্য খামার রয়েছে। একটি মামলা রাজনৈতিক হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
পিরোজপুর সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান মালেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। আটটি মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্টে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি ঠিকাদারী, ঔষধ, পাথর, বালু, ফিলিং স্টেশন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসায় নিয়োজিত। ব্যবসা থেকে ৪৫ লাখ ৬ হাজার ৩’শ টাকা বছরে আয় করেন। নগদ ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪০, ব্যবসায়ে বিনিয়োগ ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮, ব্যাংকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৩, এফডিআর ১ কোটি, দুটি প্রাইভেট কার, একটি ট্রাক, ২০ তোলা স্বর্ণ, লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল, একটি শর্টগানসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। চার দশমিক ৫০ একর কৃষি, দুই দশমিক ২২ একর অকৃষি, একটি দোতলা দালান, ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৬ টাকা মূল্যের ফিলিং স্টেশনের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।