বরিশালে জলে ডুবেছে কৃষকের ভাগ্য

বরিশাল অফিসঃ অতিবর্ষণ ও জোয়ারের জলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার ক্ষেতের অর্ধেক পরিমান শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, জোয়ারের জলে শাক-সবজি চাষ করে তারা সর্বস্বান্ত হয়েছে। জেলার বাণিজ্যিক চাষীদের ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে শাক-সবজির গাছ মরে গেছে। জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শাক-সবজির ফলন প্রায় শেষপর্যায়ে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ তেমন বেশি কিছু নয়।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত শাক-সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কলা, পেঁপে, ডাটা, শশা, চিচিঙ্গা ও লাউ। সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৪ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি আবাদ করা হয়েছিলো। ফসল তোলার শেষপর্যায়ে গত সপ্তাহ পর্যন্ত ৪০৮ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি ছিল। গত সপ্তাহে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে ২২৮ হেক্টর জমির শাক-সবজির ফসলি জমি প্লাবিত হলে ওইসব জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ২০ হেক্টর জমির সবটুকুই প্লাবিত হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশী শাক-সবজির চাষ হয় বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলায়। গত সপ্তাহে এ দুই উপজেলায় যথাক্রমে ৭০ ও ৫৫ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি ছিল। জোয়ারে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাবুগঞ্জর ৩০ হেক্টর ও উজিরপুরে ৩৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬৫ হেক্টরের মধ্যে ৩০ হেক্টর, বানারীপাড়ায় ৪৫ হেক্টরের মধ্যে ২৫ হেক্টর, হিজলায় ৪০ হেক্টরের মধ্যে ২৪ হেক্টর, মুলাদীতে ৫০ হেক্টরের মধ্যে ৩০ হেক্টর, আগৈলঝাড়ায় ২০ হেক্টরের মধ্যে ১০ হেক্টর, গৌরনদীতে ১৫ হেক্টরের মধ্যে ১০ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ২০ হেক্টরের মধ্যে ১০ হেক্টর শাক-সবজি আবাদের প্লাবিত হয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষি অফিসের এ তথ্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চাষী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মুন্সী জানান, জেলার মধ্যে বাবুগঞ্জে সবচেয়ে বেশি শাক-সবজির চাষ হয়। জোয়ারের পানিতে এই উপজেলার সব শাক-সবজির ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। তার নিজের ৩০ শতক জমির লাউয়ের বাগান বিনষ্ট হয়ে গেছে। মেঘনা নদী বেষ্টিত উপজেলা মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের চাষী কামরুল আহসান জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে শশা, পুইশাক ও চিচিঙ্গার আবাদ করেছিলেন। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে এখন কিছুই নেই। কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, শাক-সবজি মৌসুম প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। যে কারণে মাঠে কৃষকের তেমন শাক-সবজি ছিল না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
a