বরিশালে ঈদ সার্ভিসের অত্যাধুনিক লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশালঃ পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রী পরিবহনের জন্য কীর্তনখোলা নদীর তীরে অপেক্ষমান দেশের প্রথম হেলিপ্যাডযুক্ত অত্যাধুনিক যাত্রীবাহি ক্যাটারম্যান টাইপের লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার-৬ এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরীর দপদপিয়ায় অ্যাডভেঞ্জার ডকইয়ার্ডে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠীর ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। ততক্ষনে লঞ্চটি সম্পূর্ন ভস্মিভূত হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেও কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। অগ্নিকান্ডের সময় লঞ্চের সবগুলো এসিতে আগুন লাগার ফলে বিস্ফোরিত হয়ে মুহুর্তের মধ্যে পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পরে।
লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী ও বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, এফবিসিসিআই এর পরিচালক মোঃ নিজাম উদ্দিন মৃধা বলেন, কোন একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র¿মূলকভাবে আগুন লাগিয়ে তার নতুন নির্মান করা অত্যাধুনিক নৌ-যানটি পুরে ফেলেছে। বিশেষ করে লঞ্চের তিনটি ফ্লোরে আগুন লেগে সমস্ত ফিটিংস, এসি, চেয়ার, ইঞ্জিনসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নৌ-যানটির সিংহভাগই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের বিশেষ দিবা সার্ভিসে যুক্ত করার কথা ছিলো অ্যাডভেঞ্চার-৬ ও ৫ নামের বিলাসবহুল দুইটি নৌ-যান। কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া পয়েন্টের নিজস্ব ডকইয়ার্ডে ক্যাটারমেন টাইপের এ নৌ-যান দুইটির পাশাপাশি আরও একটি যাত্রীবাহী বিলাস বহুল লঞ্চ অ্যাভেঞ্জার-১ এর নির্মান কাজ চলছে।
সূত্রমতে, পুড়ে যাওয়া নৌ-যানটির মাত্র পাঁচ ভাগ কাজ বাকি ছিলো। আগামী শুক্রবার নৌ-যানটি কীর্তনখোলা নদীতে ভাসিয়ে ট্রায়াল রান দেওয়ার কথাছিলো। এ অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। নৌ-যান মালিক নিজাম উদ্দিন বলেন, ডকইয়ার্ডের একপাশে শ্রমিক ও কর্মচারীরা তারাবির নামাজ আদায় করছিলো। হঠাৎ তারা দেখতে পান লঞ্চে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এরপর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। ততক্ষনে নৌ-যানটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়। নিজাম উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মিডিয়ায় তার নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাস বহুল নৌযান পানিতে ভাসানোর কথা ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ায় কোন মহল ঈর্শ্বান্বিত হয়ে আগুন লাগাতে পারে বলে তিনি ধারনা করছেন।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় উপ-পরিচালক শামিম আহসান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে ইঞ্জিনের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। অগ্নিকান্ডটি ভয়াবহ হওয়ায় বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও ঝালকাঠীর তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ করে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। তবে বিষয়টি দূর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখার জন্য নৌ-যান মালিক তদন্ত কমিটির দাবি করেছেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ আওলাদ হোসেন পিপিএম জানান, লঞ্চ মালিকের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানকার সকল পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত হওয়া নির্মাণাধীন অ্যাডভেঞ্চার-৬ নৌযানটি সম্পূর্ণ নতুন মেরিন ইঞ্জিন ও শীট দিয়ে তৈরী করা হয়েছিলো। বিলাস বহুল ও সম্পূর্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনতলা বিশিষ্ট এ নৌ-যানটিতে ছয়শ’ যাত্রী পরিবহনে সক্ষম ছিলো।