বরিশালে আবাদি জমি খননের হিড়িক

147

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে॥ ধান চাষের জন্য বিখ্যাত বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার আবাদি কৃষিজমি নষ্ট করে এস্কেভেটর মেশিনের সাহায্যে দিনরাত সমানতালে দ্রুত গতিতে মাছের ঘের, পুকুর, পান বরজ ও বাড়ি নির্মানের হিড়িক পড়েছে। ফলে ক্রমেই ধানের জমি কমতে শুরু করেছে। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। এতে করে সাধারন কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে বরিশাল জেলার গৌরনদী-সরিকল সড়কের পাশ্ববর্তী বাটাজোর ইউনিয়নের পশ্চিম চন্দ্রহার গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার প্রায় দেড়’শ একরের ইরি ব্লকের ফসলি জমির মধ্যবর্তীস্থানসহ রাস্তার পাশের জমিতে উন্নত প্রযুক্তির এস্কেভেটর মেশিনের সাহায্যে খনন করে মাছের ঘের, পুকুর, পানবরজ, বসত বাড়ি ও এনজিও’র অফিস নির্মানের জন্য মাটি কাটার ধুম পড়েছে। গত ১৫দিন থেকে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা তাদের ক্রয় ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ফসলি জমিতে মাটি কাটার কাজ করাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ওই ইরি ব্লকের বিভিন্ন জমিতে প্রায় পাঁচ ফুট উচুঁ করে অসংখ্য মাছের ঘের, পানবরজ, বসতবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মানের জন্য মাটি কাটা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, যেভাবে জমি খননের কাজ শুরু হয়েছে, তাতে করে আগামি ২/৩ বছরের মধ্যে এ ইরি ব্লকে কোন জমির অস্থিত থাকবেনা। তাছাড়া মাছের ঘের, পানবরজ, বসত বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনার আশপাশে বিভিন্ন প্রজাতের গাছ লাগানোর পর পাশ্ববর্তী জমিগুলোর চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। তাই আগেভাগেই জমি বিক্রির হিড়িক পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ইরি ব্লকের মাঝখানে ১’শ শতক জমিতে গত তিনদিন পূর্বে মেশিনের সাহায্যে মাছের ঘের বানিয়েছেন স্থানীয় কালাচাঁদ দাস, একইভাবে অভিলাস নন্দি তার ২০ শতক জমিতে, বাচ্চু মৃধা তার ক্রয়কৃত নয় শকত জমিতে মাছের ঘের নির্মান করেছেন। আলমগীর ফকির তার ১৬শতক জমি খনন করেছেন পানবরজ, মজলু মিয়া তার আট শতক জমিতে কলার বাগান, সরিকল এলাকার বাসিন্দা তমাল কাজী তার ক্রয়কৃত ২২শতক জমিতে পুকুর ও এনজিও’র ভবন নির্মানের জন্য মেশিনের সাহায্যে মাটি কাটার কাজ করাচ্ছেন। ইতোমধ্যে রাস্তার পার্শ্বের জমিতে মাটি কাটার পর বসত বাড়ি নির্মান করেছেন জনৈক তৈয়ব আলী নামের এক ব্যক্তি। সূত্রে আরও জানা গেছে, ওইসব এলাকায় বর্তমানে এক শতক জমির মূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আর এক শতক জমি মেশিনের সাহায্যে মাটি কেটে ভরাট করতে লাগে মাত্র ৫ হাজার টাকা।
একইভাবে জেলার আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ ও সদর উপজেলার আবাদি জমিতে প্রকাশ্যেই চলছে মাটি কেটে পুকুর, মাছের ঘের, বসত বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মানের কাজ। গত দু’এক বছর পূর্বেও যেসব জমি ছিলো ফসলের মাঠ তা এখন পুকুর, মাছের ঘের ও বসতবাড়িতে পরিণত হয়েছে। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে কিছু কৃষক স্বাবলম্বী হলেও পর্যায়ক্রমে আবাদি জমির পরিমাণ কমে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধান উৎপদান কমে যাবে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুকুর, মাছের ঘের ও বসত বাড়ি করতে পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুর, মাছের ঘের খনন করে অন্যান্য কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান বলেন, আবাদি জমিতে মাছের ঘের কিংবা পুকুর খননের বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। জরুরি ভিত্তিতে এসব বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হবে।