বন্যা পরিস্থিতি অবনতি

9

যুগবার্তা ডেস্কঃ সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটেছে।চরম দুর্ভোগে গৃহহীন মানুষ। নাই বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যাস্থা। আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে।

অতিবর্ষনে দেশের ৬৮ পয়েন্ট বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে বন্যা কবলিত হয়েছে দেশে অনেক জেলা। বিশেষ করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে বাধঁ ভেঙ্গে এ পটিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে জানিয়েছে, আগামী ২৬ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পাবে।আশংকা করা হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি সারাদেশ অবনতি ঘটতে পারে।

রাজধানী ঢাকার আশেপাশে ইতিমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এমনিতে রাজধানীতে একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়। বাইরে থেকে চাপ বাড়লে চড়ম সংকটে পরতে হবে নগরবাসীকে।

৯৩টি পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, পুরাতন সুরমা, সোমেশ্বরী, কংস, ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও সাঙ্গু এই ১৪টি নদীর পানি ২৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ৬৮টি পয়েন্টে বৃদ্ধি ও ২২টি পয়েণ্টে হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশসমূহের বিস্তৃত এলাকায় আরও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন ভারতের বিহার এবং নেপালে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নেপালে ইতিমধ্যে ৩১ জেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কয়েক লাখ মানুষ আটকা পরেছে। মারা গেছে ৮৩ জন মানুষ।

সিলেট অফিস জানান, টানা বৃষ্টিতে সুরমা,কুসিয়ারা,বলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।উজান থেকে পয়ড়াহী ঢল নেমেছে। ঢল আসছে আসাম সীমান্ত থেকে। ৬ টি উপজেলার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ৭০ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।১ লাখ ৩০ হাজাব মানুষ আটকা পড়েছে। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলায় খোয়াই নদী ও কুশিয়ারা নদীর পানি ঢুকে পরেছে গ্রামগুলোতে। আশ্রয়হীন হয়ে পরেছে বাসিন্দরা।

রংপুর অফিস জানায়, কুড়িগ্রামে ভয়াবহ অবস্থার রুপ নিয়েছে। ৪শ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে। ৫৭৮ হেক্টর জমির বীজ তলা পানির নীচে। আশেপাশের জেলায় প্রতি নিয়ত নুতন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিথ্ঠানগুলো। ৩ লাখ মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। ধলা, তিস্তা,দূদ কুমোর, ব্রক্ষপুত্র সহ ১৬ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

লালমটিরহাট জেলায়, কুলাঘাট পয়েন্ট থেকে ধরলা নদীর পানি গ্রামগুলো প্রবাহিত হয়েছে।

গাইবান্ধায় বন্যার কারনে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। ব্রক্ষপুত্র নদীর পানির তোড়ে বাগুড়িয়া নামক স্থানে বাধঁ ভেঙ্গে ৭ শ বাড়িঘর পানির নীচে। ব্রক্ষপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি বেড়েই চলছে। এখানে মাত্র ৮৫ আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয় নলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বগুড়া অফিস জানান, এই জেলায় যমুনা নদীর নিয়ন্ত্রণ বাধঁ ভেঙ্গে ৮০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।৫৬৮ হেক্টর কৃষি জমি পানির নীচে।

সিরাজগঞ্জ বাধঁ ভেঙ্গে যাওয়া মানুষজন টিনে চালে আশ্রয় নিয়েছে। যেসব এলাকায় টিনে চালায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে সে এলাকায় মানুস আশ্রয় কেন্দ্ররে ছুটছে। সবচেয়ে বেশী সংকটে পরেছে গবাদি পশু নিয়ে। একই জায়গা তাদের সাথেই থাকছে।

জামালপুর জেলাও বন্যার অবনতি ঘটেছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিরা জানান, ৭৯টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে। পানি আরও বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে উত্তর, উত্তর-পূর্ব এলাকা।

ফরিদপুর অফিস জানিয়েছেন, ফরিদপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি জেলায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন ও এলাকাবাসী বাধঁ নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানান, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি অতি বর্ষায় পাহাড়ী ধসের আরও আতংক করা হয়েছে। বিপদ জনক এলাকায় থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যানচলাচল ব্যহত হচ্ছে।