বছর শেষে বাজেটের লক্ষ্য ধরে রাখতে পারেনি মূল্যস্ফীতি

3

সাইদ রিপন : গত তিন মাসের করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর। করোনকালীন সময়ে যাদের আয় কমে গেছে সংসার চালাতে হিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। যার ফলে গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সাধারণ ও খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে

বিবিএস’র তথ্যানুযায়ী, বছরওয়ারি পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ-মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফল, তামাক, দুধজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর দাম বাড়তি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

গতকাল সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএস বলছে, বর্তমানে কোভিড-১৯ এর ফলে অনেকে চাকরি হারিয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি পাড়ি জমিয়েছন। ফলে বাড়ি ভাড়া কমেছে। বাড়ি ভাড়া কমার কারণে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে।

বিবিএস তাদের প্রকাশিত তথ্যে বলেছে, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে মাছ, শাক-সবজি বিশেষ করে আলু, বেগুন, শিম, কুমড়া, গাঁজর, শসা , টমেটো, ফুলকপি, বাঁধকপি, লাল শাক ও মূলার দাম বেড়েছে। ফল জাতীয় পণ্যের মূল্যও বাড়তি। মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও মাসওয়ারী বেড়েছে। ফলে জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, অথচ মে মাসে এই হার ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এদিকে জুন মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। মে মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থলী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবাখাতের মূল্যস্ফীতির হার কমেছে।

প্রতি মাসের মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের জন্য সারাদেশের ৬৪টি জেলায় ১৪০টি হাট বাজার থেকে নির্ধারিত মাসের ১২ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ইমেল ছাড়াও হার্ডকপিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস।আমাদের সময়.কম