বঙ্গোপসাগরের “বঙ্গবন্ধু চর” হতে পারে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ সমুদ্র বন্দর মোংলা থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দুরে সাগরের বুকে প্রায় দেড় যুগ আগে জেগে উঠেছে একটি বালুচর। ধীরে ধীরে সেখানে জোয়ার ভাটায় ভেসে আসা নানা প্রজাতির গাছ-পালা ও লতাগুল্ম জম্মানো শুরু করেছে। নানা প্রজাতির পাখির বসবাসও শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের জেলেরা চরটির নাম দিয়েছে ”বঙ্গবন্ধুর চর”। আলাদা ভুখন্ডে জেগে ওঠা চরটি দৈর্ঘ্য ৮ মাইল এবং প্রস্থ ৬ মাইল।

সুন্দরবন বিভাগ খুলনা রেঞ্জের সিএফ আমির হোসেন চৌধুরী দৈনিক পূর্বাঞ্চলকে জানান, ১৮ থেকে ২০ বছর আগে আলাদা ভুখন্ড বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা চরটিতে কয়েকজন জেলে ‘বঙ্গবন্ধুর চর’ নামকরন করেন। সেই থেকেই নতুন এই চরটি ‘বঙ্গবন্ধুর চর’ নামে সবার কাছে পরিচিত পেয়েছে।
এই বঙ্গবন্ধুর চরে এখন ইকো-ট্যুরিষ্টদের পদচারনা বেড়েই চলেছে। তবে সেখানে কোন পর্যটন স্পট করার পরিকল্পনা নেই বনবিভাগের। আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু চরের পাশে আমাদের নীলকমল অভয়ারন্য আছে। ওই চরটা অভয়ারন্য এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’র অংশ। এটা ন্যাচার‌্যাল ফরেষ্ট, তাই সংরক্ষন করাই আমাদের কাজ।

মোংলা কোষ্টগার্ডের অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার ফরিদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ জলসীমায় চোরাচালান রোধ, মোংলা ও পায়রা বন্দরগামী দেশী-বিদেশী জাহাজসহ বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তায় সরকার সাগরের বুকে জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধুর চরে কোষ্টগার্ডের বেইজ নির্মান করতে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোষ্টগার্ডের বেইজ নির্মান হলে মোংলা ও পায়রা বন্দরে দেশী-বিদেশী জাহাজের নিরাপত্তার জন্য মনিটরিং সহজ হবে। বঙ্গোপসাগরের জাহাজগুলো নজরদারির মধ্যে রাখার পাশাপাশি রাডারের মাধ্যমে এর গতিবিধিও ট্র্যাক করা যাবে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের দুবলারচর ও হিরন পয়েন্টের ১০ নটিক্যাল মাইল পুর্ব-দক্ষিনে জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধুর আইল্যান্ডে কোষ্টগার্ডের বেইজ ক্যাম্প নির্মান হলে সমূদ্রগামী জাহাজ ও জেলেদের নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করছেন তারা। মোংলা নাগরিক সমাজের সহসভাপতি নাজমুল হক বলেন সুন্দরবনের ”বঙ্গবন্ধু চরে” যদি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা যায় তাহলে পর্যটকদের জন্য এটা হতে পারে আকর্ষনীয় স্থান।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, এই দ্বীপটি দেশের স্বার্থে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে ব্যাপারে আমরা খতিয়ে দেখছি। স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মতামত চেয়েছে কোষ্টগার্ডের একটি বেইজ নির্মানের জন্য। মৎস্যজীবীসহ সার্বিক নিরাপত্তা বলয়ের জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।