বঙ্গুবন্ধুই প্রথম গণতন্ত্রের বুকে শেষ পেরেকটি মেরে ছিলেন–রাঙ্গা

5

মাহাবুবুর রহমানঃ বঙ্গুবন্ধু গণতন্ত্রের জন্য অনেক কিছু করলেও তিনিই প্রথম গণতন্ত্রের বুকে শেষ পেরেকটি মেরে ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেদিন বাকশাল গঠন করেন, সেদিন তিনি কয়েকটি বাদে সব পত্রিকা বন্ধ করে দেন। সেদিনই আসলে গণতন্ত্রের বুকের শেষ পেরেক ঠুকে দেন তিনি। এ সময় জাপা মহাসচিব স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া যদি স্বৈরাচার হন, তাহলে শেখ হাসিনাও স্বৈরাচার।

আজ জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র দিবস’ এর আলোচনা সভায় মসিউর রহমান রাঙ্গা এ কথা বলেন।

১৯৮৬ সালের পর থেকে দিবসটিকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে আসছে জাতীয় পার্টি।
সভায় মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে সুন্দরবনে, যদি বিশ্বজিৎ ও আবরারকে হত্যা করা না হতো তাহলে বলতাম গণতন্ত্র রয়েছে। শিক্ষককে পানিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। জাবি ভিসির পদত্যাগের জন্য আন্দোলন করছে ছাত্ররা। ইয়াবাখোর ফেনসিডিলখোর ছিলেন নুর হোসেন। তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। তাদের কাছে ইয়াবা-ফেন্সিডিল খোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। এরশাদ সাহেবের কাছে এরা কোনো গুরুত্ব পাননি। যারা গণতন্ত্রের গ ও বুঝে না, অ্যাডিক্টেড একটি ছেলে নুর হোসেন। পুলিশ গুলি করলো সামনে থেকে আর ঘুরে গিয়ে পেছন থেকে লাগল। কি হাস্যকর যুক্তি। তখনতো একজন মারা গেছে, এখন প্রতিদিনই মানুষ মরছে।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ না, খালেদা জিয়া স্বৈরাচার। খালেদা স্বৈরাচার হলে শেখ হাসিনাও স্বৈরাচার। কারণ এখন প্রতিদিনই মানুষ গুম-খুন হচ্ছে। সর্বত্র মানুষের আহাজারি। একুশ বছর পর এরশাদের অনুগ্রহে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। আর সেই আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়। নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে। আওয়ামী লীগ বিএনপি গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ওদের মুখে গণতন্ত্র মানায় না। এই গণতন্ত্র মুখে দেয় নাকি মাথায় দেয়। আগে গণতন্ত্র বুঝতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জাপা মহাসিচব।

সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, নুর হোসেন এবং ডাক্তার মিলনকে কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে এবং কিভাবে হত্যা করেছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। তিনি নুর হোসেন এবং ডাক্তার মিলন হত্যার প্রকৃত খুনীদের বিচার দাবি করে বলেন, নুর হোসেন ও ডাক্তার মিলন হত্যার ইস্যু তুলে দেশের মানুষকে বারবার বিভ্রান্ত করা হয়। আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অপবাদ দেয়া হয়। এর একটা সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে নুর হোসেন ও ডাক্তার মিলনসহ ষড়যন্ত্রমূলক সকল হত্যার বিচার করা হবে।
জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুগ্ম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফুজ্জামান খান প্রমুখ।